ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট অবরুদ্ধ (ক্রোক) করার পর, সেগুলোর ভেতরের মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর আজ রোববার সকালে ফ্ল্যাট দুটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আদালতের আদেশে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা এবং গুলশান থানা পুলিশের একটি যৌথ দল গুলশানের ফ্ল্যাট দুটিতে অভিযান চালায়। সেখানে থাকা সব সামগ্রীর ইনভেন্টরি বা তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফ্ল্যাট দুটি গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে অবস্থিত। এর মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটটি ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটটি ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুটের। দুটি ফ্ল্যাটের সম্মিলিত আয়তন ৭ হাজার ৫৭৯ বর্গফুট।
এর আগে, গত বছরের ১৮ নভেম্বর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত সাবেক এই মন্ত্রীর ফ্ল্যাট দুটি ক্রোকের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ফ্ল্যাট দুটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলেও সেগুলো তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে ঢোকা সম্ভব হচ্ছিল না।
পরবর্তী সময়ে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ এপ্রিল আদালত তালা খুলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও মালামালের তালিকা তৈরির অনুমতি দেন। একই সঙ্গে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ওই ভবনের ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেনকে এই প্রক্রিয়াকালীন উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেন আদালত।
দেশবার্তা/একে