ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  সোমবার | ২০ জুলাই ২০২৬ | ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১৭:০৮
চলমান বার্তা:
রেকর্ড ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার আয় ফিফার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১৬:৩৮ আপডেট: ২০.০৭.২০২৬ ১৫:০১  (ভিজিটর : )

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে বসা ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে রেকর্ড আয়ের নতুন ইতিহাস গড়ল ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের এই অভিভাবক সংস্থাটি সদস্যদেশগুলোকে জানিয়েছে, চলতি বিশ্বকাপ থেকে তাদের মোট আয় হয়েছে ১৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা)।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা না দিলেও শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে। শুরুতে বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ বিলিয়ন ডলার। তবে মাঠের লড়াই শেষে সেই লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে অতিরিক্ত আরও ৪ বিলিয়ন ডলার ঘরে তুলেছে সংস্থাটি।

জানা গেছে, এই বাড়তি আয়ের সিংহভাগ এসেছে আতিথেয়তা ও টিকিট বিক্রি থেকে, বিশেষ করে উচ্চমূল্যের ‘সেকেন্ডারি টিকিটের’ বাজার থেকে। সেকেন্ডারি বাজারে টিকিট হস্তান্তরের সময় ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা- উভয় পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে কমিশন নিয়েছে। 

এমনকি আজ রোববার নিউ জার্সিতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের আগের সন্ধ্যা পর্যন্তও ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট অবিক্রীত ছিল, যার মধ্যে ট্রফি লাউঞ্জ প্যাকেজের প্রতিটি টিকিটের দাম হাঁকা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৫০০ ডলার। 

টিকিটের এই আকাশছোঁয়া দামের কারণেই মূলত ফিফার কোষাগার এত দ্রুত সমৃদ্ধ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বাড়তি আয়ের সুফল সদস্যদেশগুলোর ফুটবল সংস্থাগুলোও পাবে।

মাঠের বাইরে নানা বিতর্কের কারণে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব যখন প্রশ্নের মুখে, ঠিক তখনই এই আর্থিক সাফল্য তাঁর জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এলো। বিশেষ করে, শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহারের ঘটনায় ফিফা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। 

ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল সংস্থা অভিযোগ তোলে, স্বাগতিক দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে ফিফা। যদিও ফিফা দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্ত তাদের শৃঙ্খলা কমিটির স্বাধীন সিদ্ধান্ত ছিল।

নানা সমালোচনা সত্ত্বেও রেকর্ড আয়ের কল্যাণে ইনফান্তিনোর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই ২০০টির বেশি সদস্যসংস্থার সমর্থন পেয়েছেন তিনি। বিশাল অঙ্কের অতিরিক্ত আয়ের সুবাদে অনেক সদস্যদেশ এখন প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখানো থেকে বিরত থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এমন বিপুল আর্থিক সাফল্যের পর ভবিষ্যতে আবারও সেখানে দ্রুত বিশ্বকাপ ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ২০৩৮ সালে আবারও মার্কিন মুলুকে বিশ্বকাপ ফিরতে পারে। 

গত শুক্রবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিন, তবে কানাডা ও মেক্সিকোকে বাদ দিন।’ এছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ এককভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজন করা নিয়েও ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে দেশটি।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।