ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  সোমবার | ২০ জুলাই ২০২৬ | ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১৭:০৮
চলমান বার্তা:
বাড়ছে প্রিমিয়াম স্বাদের প্রতিযোগিতা
৫ বছরে দ্বিগুণ আইসক্রিমের বাজার
তবে কাঁচামাল, শুল্ক ও কোল্ড চেইনের চ্যালেঞ্জে চাপে শিল্প
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১৬:৫৬  (ভিজিটর : )

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক সংকটের প্রভাব থাকলেও আইসক্রিমশিল্প গত পাঁচ বছরে (২০২১-২০২৬) উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার বাজার ২০২৬ সালে বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে এ খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ।

বিশ্ব আইসক্রিম দিবসকে ঘিরে খাতটির প্রবৃদ্ধি ও সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বৈশাখ, ঈদ, দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে আইসক্রিমের চাহিদা বাড়ছে। শিশুদের খাবারের গণ্ডি পেরিয়ে এটি এখন হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগনির্ভর একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘায়িত গ্রীষ্ম ও তীব্র তাপপ্রবাহ আইসক্রিম বিক্রির মৌসুম বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে যেখানে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ছিল মূল বিক্রির সময়, এখন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত বাজারে চাহিদা থাকে। এতে উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম প্রায় বছরজুড়েই সচল থাকছে।

দেশীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলো গত কয়েক বছরে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ভালুকা, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আধুনিক স্বয়ংক্রিয় কারখানা গড়ে উঠেছে। দৈনিক উৎপাদনক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

একই সঙ্গে ভোক্তাদের রুচির পরিবর্তনে সাধারণ ভ্যানিলা বা স্ট্রবেরির বাইরে প্রিমিয়াম ও ফিউশন ফ্লেভারের চাহিদা বেড়েছে। ‘রোবাস্তো পিস্তা কুনাফা’ ও ‘বেলজিয়াম ডার্ক চকলেট’ এর মতো নতুন স্বাদের আইসক্রিম বাজারে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বেশি মুনাফার কারণে কোম্পানিগুলো গবেষণা ও নতুন পণ্য উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

তবে শিল্পের সামনে বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দেশীয় দুধের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় স্কিমড মিল্ক পাউডার, বাটার ফ্যাট, কোকোয়া ও বিশেষ ফ্লেভার আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব কাঁচামালের শুল্ক ও কর বৃদ্ধি এবং ডলারের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।

এছাড়া কারখানা থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রাখার কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সমস্যা ও লোডশেডিংয়ের কারণে পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয় বাড়ছে।

দেশের অন্যতম আইসক্রিম ব্র্যান্ড ইগলুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জি এম কামরুল হাসান এক গণমাধ্যমকে বলেন, বাজারের আকার ও নতুন স্বাদের চাহিদা বাড়লেও আমদানিনির্ভর কাঁচামাল, শুল্ক বৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যয় এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা শিল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সরকারের নীতিসহায়তা পেলে এ শিল্প আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে।

দেশবার্ত/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।