সরকারি চাকরি পেতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় নিজের বদলে অন্যকে (প্রক্সি) দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর অভিযোগে চার যুবককে আটক করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস সহায়ক’ পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর যোগ দিতে এসে তাদের জালিয়াতি ধরা পড়ে।
রোববার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের সময় কর্মকর্তারা তাদের পরিচয় যাচাই করতে গিয়ে অসঙ্গতি দেখতে পান। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হলে চারজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আটকরা হলেন- টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আ. হালিম, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব শরিফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার অফিস সহায়ক পদে ২০ জন এবং সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে পাঁচজনের যোগদানের দিন ছিল। মৌখিক পরীক্ষার সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীর ছবি সংরক্ষণ করা হয়। যোগদানের সময় সেই ছবির সঙ্গে উপস্থিত প্রার্থীদের চেহারা মিলিয়ে দেখতে গিয়ে চারজনের ক্ষেত্রে অমিল ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, কাগজপত্র ও সংরক্ষিত ছবি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই চারজন নিজেরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি; তাদের হয়ে অন্য ব্যক্তি প্রক্সি হিসেবে পরীক্ষা দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিষয়টি স্বীকার করেন এবং লিখিতভাবেও নিজেদের দোষ স্বীকার করেন। পরে তাদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গত ২৪, ২৫ ও ২৮ আগস্ট অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব প্রার্থীর ছবি সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পরে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ১ নম্বর কক্ষে যোগদানের জন্য ডাকা হয়।
নির্ধারিত সময়ে চারজন যোগ দিতে এলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। সংরক্ষিত ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পর প্রক্সি জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে তারা স্বীকার করেন, তাদের হয়ে অন্য ব্যক্তি মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
দেশবার্তা/একে