১০ গোলের রোমাঞ্চকর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ড ৪-৬ ব্যবধানে জেতায় আসরে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ১০। ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাওয়া লিওনেল মেসির অবস্থান তার ঠিক পেছনে, ৮ গোল নিয়ে। অর্থাৎ, গোল্ডেন বুট জিততে হলে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে ফাইনালে অন্তত দুই গোল করতেই হবে। তবে শুধু গোল করলেই হবে না, গোল্ডেন বুটের জটিল সমীকরণে জড়িয়ে আছে অ্যাসিস্ট ও মাঠে খেলার সময়ও।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোল্ডেন বুট নির্ধারণে প্রথমে দেখা হয় সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা। গোল সমান হলে বিবেচনায় আসে অ্যাসিস্টের সংখ্যা। আর সেখানেও সমতা থাকলে পুরস্কার পান কম মিনিট মাঠে খেলা ফুটবলার।
কী করলে গোল্ডেন বুট জিতবেন মেসি
মেসি যদি ফাইনালে হ্যাটট্রিক করতে পারেন, তবে তার গোলসংখ্যা হবে ১১। সে ক্ষেত্রে এমবাপ্পেকে সরাসরি ছাড়িয়ে কোনো জটিল সমীকরণ ছাড়াই ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো গোল্ডেন বুট উঁচিয়ে ধরবেন তিনি।
ফাইনালে মেসি যদি জোড়া গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে একটি গোল করান, তবে এমবাপ্পে ও তার গোলসংখ্যা হবে সমান ১০টি। কিন্তু অ্যাসিস্টের দিক থেকে এমবাপ্পের (৪টি) চেয়ে মেসি (৫টি) এগিয়ে থাকায় টাইব্রেকারে গোল্ডেন বুট যাবে মেসির হাতেই।
মেসি যদি কেবল ২ গোল করেন, তবে দুজনেরই গোল (১০) ও অ্যাসিস্ট (৪) সমান হয়ে যাবে। তখন জয়ী নির্ধারিত হবে মাঠে খেলার সময়ের ওপর ভিত্তি করে। মেসি এখন পর্যন্ত ৭১২ মিনিট খেলেছেন, যা এমবাপ্পের চেয়ে ৫২ মিনিট কম। অর্থাৎ, এই সমীকরণে জিততে হলে মেসিকে জোড়া গোল করে ম্যাচের ৫২ মিনিট পার হওয়ার আগেই মাঠ ছাড়তে হবে। এর চেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকলে মোট খেলার মিনিটে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাবেন মেসি, ফলে পুরস্কারটি জিতবেন ফরাসি ফরোয়ার্ডই।
মেসি যদি ফাইনালে মাত্র ১টি গোল পান, তবে তার মোট গোল হবে ৯টি। এমবাপ্পের ১০ গোল স্পর্শ করতে না পারায় গোল্ডেন বুট জেতার কোনো সুযোগ থাকবে না তার।
বিশ্বকাপের ফাইনালে তাই শুধু দলগত শিরোপাই নয়, মেসির সামনে অপেক্ষা করছে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অর্জনের এক মহালড়াই। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ও আর্জেন্টিনার চতুর্থ শিরোপা জয়ের মিশনের পাশাপাশি ক্যারিয়ারের প্রথম গোল্ডেন বুট জয়ের হাতছানি এখন ফুটবল জাদুকরের সামনে।
ফাইনালের আগে শীর্ষ পাঁচ গোলদাতা
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ১০ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট (৭৬৪ মিনিট)লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট (৭১২ মিনিট)ওসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স): ৭ গোল, ২ অ্যাসিস্ট (৬৮৪ মিনিট)জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড): ৭ গোল, ১ অ্যাসিস্ট (৬৯২ মিনিট)আরলিং হালান্ড (নরওয়ে): ৭ গোল, ০ অ্যাসিস্ট (৫৩৭ মিনিট) দেশবার্তা/একে