রান তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল মন্থর। পাওয়ার প্লে শেষ হতেই জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। বাঁহাতি ব্যাটার ইমন দ্রুত ফিরলেও তানজিদকে যোগ্য সঙ্গ দেন দলনেতা তাওহীদ হৃদয়। তাদের ব্যাটে ভর করে ততক্ষণে জয়ের বন্দরেই অবস্থান করছিল টাইগাররা।
কিন্তু শেষ ওভারে যখন দরকার মাত্র ৫ রান, তখন নাটকীয়ভাবে দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে জয়ের স্বপ্ন দেখান ব্র্যান্ড ইভান্স। পেতে পারতেন হ্যাটট্রিকও! এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছিলেন শেখ মেহেদী হাসান, তবে আম্পায়ার বলটি ‘ডেড’ ঘোষণা করায় বেঁচে যান তিনি। এরপর আর কোনো ভুল করেননি মেহেদী। চটজলদি চার হাঁকিয়ে দলকে জয়ের স্বাদ এনে দেন এই অলরাউন্ডার।
এর আগে বুলাওয়েতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান সংগ্রহ করেছিল জিম্বাবুয়ে। জবাব দিতে নেমে তানজিদ তামিমের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিল টাইগাররা।
১৪৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৫ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে মাত্র ৩০ রান।
তবে দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজন মিলে স্কোরবোর্ডে তোলেন ৫৫ রান। ইমন ২৪ রান করে বিদায় নিলে তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে আরেকটি ৬৩ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। ততক্ষণে জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। হৃদয়ও ব্যক্তিগত ২৪ রানে সাজঘরে ফেরেন। এরপর আউট হওয়ার আগে ১০ রান করেন ইয়াসির আলি রাব্বি। শেষ ওভারে টানটান উত্তেজনার মধ্যে ফেরেন মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
এক প্রান্ত আগলে রেখে শেখ মেহেদীকে সঙ্গে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তানজিদ তামিম। ব্যক্তিগত ফিফটি পূরণের পর ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন এই ওপেনার। অন্যদিকে ৪ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী।
এর আগে জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজা টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। দলীয় ৬ রানেই স্বাগতিকদের ওপেনিং জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স মিলে গড়েন ৭১ রানের শক্ত জুটি। ৩৮ বলে ৪৭ রান করে বেনেট থামলেও ফিফটির দেখা পান মায়ার্স। আউট হওয়ার আগে ৫২ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭২ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন তিনি।
মায়ার্সের বিদায়ের পর বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আর কেউই সুবিধা করতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের আর কোনো ব্যাটারই ব্যক্তিগত রান দুই অঙ্কের ঘরে নিতে পারেননি। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ৩, রায়ান বার্ল ৭, ব্র্যান্ড ইভান্স ১ ও ক্লাইভ মাদানদে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত মিল্টন সুম্বা ৪ ও মাপোসা শূন্য রানে অপরাজিত থাকলে ১৪৩ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। এছাড়া একটি করে উইকেট ভাগাভাগি করে নেন তিনজন বোলার।
দেশবার্তা/একে