টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও পোলট্রি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোগাই ও মহারশী নদীর পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দ্রুত পানি বৃদ্ধির ফলে নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ও যোগানীয়া ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় শেরপুর-গাজিরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কের বালুঘাটা গোল্লারপাড় এলাকায় পাকা সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এর আগে গত এক সপ্তাহ আগে পাহাড়ি ঢলের পানিতে একই সড়কের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ বিধ্বস্ত হয়েছিল।
এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে ঝিনাইগাতী সদর বাজারেও দুর্ভোগ বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা দোকান পরিচালনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং সাধারণ মানুষকে হাঁটুসমান পানি ভেঙে চলাচল করতে হচ্ছে।
পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কয়েকটি মাছের ঘের ভেসে গেছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রীষ্মকালীন সবজিক্ষেত ও সদ্য রোপণ করা আমনের বীজতলা। এছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। পানি আরও বাড়লে কলসপাড় ইউনিয়নের প্রায় ৩০০টি মাছের ঘের এবং অর্ধশতাধিক মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই আকস্মিক বন্যার মুখোমুখি হতে হয়। নদীর নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি চারটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাড়িঘর নির্মাণ ও মাছ চাষের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না, ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। দুর্গত পরিবারের জন্য চালসহ শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ