কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের আমলে দায়িত্ব নেওয়া ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিনভর এই পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল উত্তপ্ত। তাঁর বিদায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। জামায়াতে ইসলামী একে ‘স্বৈরাচারের কালো ছায়ামুক্ত হওয়া’ হিসেবে দেখছে, আর এনসিপি তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে।
অন্যদিকে, পুরো প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে বিএনপির মধ্যে। বঙ্গভবনে এবার প্রজ্ঞাবান ও দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তিত্বকে দেখতে চান দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নতুন কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ না নেওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হস্তান্তরের পর থেকেই রাজনীতির মাঠে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে- কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি?
বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা থাকলেও পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দলের ভেতরের রাজনীতি থেকেই কাউকে আনবে বিএনপি। তবে নীতি-নির্ধারণী ফোরামে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। তৃণমূল থেকে শুরু করে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের মতে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এমন একজনকে সামনে আনা উচিত, যিনি সর্বজন গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ ও সততার প্রশ্নে আপসহীন।
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। এর মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির চার সদস্য- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমানের নামও দলীয় ফোরামে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এছাড়া ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে বিএনপির বড় অংশেরই মত- রাষ্ট্রপতি পদে কোনো রাজনৈতিক ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এ বিষয়ে বলেন, যেহেতু সংসদে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই স্বাভাবিকভাবেই দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি পদে বিজয়ী হবেন। এটি জাতীয় সংসদের ভোটের মাধ্যমেই চূড়ান্ত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপ্রধান পদে এমন একজন মানুষের আসা উচিত যিনি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করেন এবং চরম রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছেন।
আলালের মতে, একজন পেশাজীবীর কর্মপরিধি সীমিত হলেও একজন রাজনীতিক রাজপথ থেকে বঙ্গভবন- সবখানেই সমানভাবে খাপ খাওয়াতে পারেন। বিএনপিতে এমন যোগ্য নেতৃত্বের অভাব নেই।
সংবিধানের ধারাক্রম উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন- এটিই নিয়ম।
তিনি আরও বলেন, দলীয়ভাবে আলোচনা করেই রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক নিয়ম মেনে সংসদে ভোটের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। রাষ্ট্রপতি পদে দলের ভেতর থেকে মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষেই মত তাঁর।
দলীয় কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে রাষ্ট্রপ্রধান করার জোর দাবি থাকলেও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে কোনো প্রখ্যাত বা নিরপেক্ষ অরাজনৈতিক ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির আগামী বৈঠকের পরই। আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রাজনীতি সচেতন মহল।