দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে আগুন লেগেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় হুহু করে বাড়ছে প্রায় সব ধরনের শাক-সবজি ও মশলাজাতীয় পণ্যের দাম। বাজারভেদে কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ মানুষ।
শনিবার রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ ঊর্ধ্বমুখী চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে দেখা যায়, বেশ কিছুদিন ২০০ টাকার আশপাশে থাকা কাঁচামরিচের দাম এখন ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। মানভেদে নতুন কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি দরে, আর একটু ভালো মানের বা পুরোনো কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায়। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে।
অন্যদিকে, মাত্র ৩-৪ দিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ বিকোচ্ছে ৬০ টাকায়। কিছুটা ছোট বা মাঝারি আকারের পেঁয়াজের কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। পাইকারি বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) ভালো মানের পেঁয়াজ ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা গত সপ্তাহেও ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানান, লাগাতার বৃষ্টি ও বন্যায় মোকাম থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া অনেক স্থানে গুদামে পানি জমে ফসল ও পেঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে।
মালিবাগ রেলগেট কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আলমগীর বলেন, উত্তরবঙ্গ, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া থেকে মূলত ঢাকায় পেঁয়াজ আসে। লাগাতার বৃষ্টির কারণে মোকামেই পেঁয়াজের দাম চড়া। বৃষ্টির কারণে মরিচও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। আমরা বেশি দামে কিনে এনে কমে বিক্রি করব কীভাবে? বাধ্য হয়েই বেশি দামে বেচতে হচ্ছে।
অন্যান্য সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা নিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে ক্রেতাদের বাকবিতণ্ডাও নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
বাজারে আসা ক্রেতা অনয় দেবনাথ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত সপ্তাহে যে পেঁয়াজ ৪০ টাকায় কিনেছি, আজ তা ২০ টাকা বেশিতে কিনতে হলো। রান্না করার মতো জরুরি জিনিস কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজ- সবকিছুরই দাম এখন নাগালের বাইরে। দুই-তিন পদের সবজি অল্প করে কিনতেই ২০০-২৫০ টাকা শেষ। এভাবে প্রতিদিন দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ চলব কীভাবে?
দেশবার্তা/একে