ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ২১:১০
চলমান বার্তা:
আলোকচিত্রাচার্য মনজুর আলম বেগ স্যারের ২৮তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি
আর আই তুহিন
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১৭:৩৩ আপডেট: ২৭.০৭.২০২৬ ১৫:৫৮  (ভিজিটর : )
মনজুর আলম বেগ। জন্ম: ১ অক্টোবর ১৯৩১ - মৃত্যু: ২৬ জুলাই ১৯৯৮

মনজুর আলম বেগ। জন্ম: ১ অক্টোবর ১৯৩১ - মৃত্যু: ২৬ জুলাই ১৯৯৮

মনজুর আলম বেগ হলেন বাংলাদেশে আলোকচিত্র আন্দোলনের পথিকৃৎ, যিনি এম এ বেগ বা বেগ স্যার এবং ‘আলোকচিত্রাচার্য’ হিসাবেই বেশি পরিচিত। জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের জন্য ২০০৭ সালে তাকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের প্রথম ফটোগ্রাফি শিক্ষা কেন্দ্র বেগ আর্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফি (১৯৬০) এবং বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির (১৯৭৬) প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রাচার্য মনজুর আলম বেগ তার ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এবং ক্লাব গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। যার কারণে চট্টগ্রাম ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ঢাকা সিনেসিক ক্লাব, ব্রাহ্মনবাড়ীয়া ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, রাজশাহী ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, নারায়নগঞ্জ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এবং দিনাজপুর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি গঠিত হয়।

এমএ বেগের পৈতৃক নিবাস নদীবিধৌত বরিশাল জেলায়। ১৯৩১ সালে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব-কৈশোর জীবন কেটেছে তার বরিশালে। ম্যাট্রিক পাস করেন ১৯৪৮ সালে। তার এক বছর পর তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। করাচি বিমান বাহিনীর টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে ফটোগ্রাফি বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করেন। 

ছয় বছর বিমান বাহিনীতে ফটোগ্রাফার হিসেবে চাকরি করে ১৯৫৫ সালে ঢাকায় ফিরে আসেন। দেশে ফিরে এসে চাকরি নেন ইউনাইটেড স্টেটস ইনফরমেশন সার্ভিসের মোশান পিকচার্স সেকশনে। সে কাজ করতে হয়েছিল তাকে ময়মনসিংহ গিয়ে। তিনি জীবনের বড় একটা সময় ফটোগ্রাফার হিসেবে চাকরি করেছেন সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে।

১৯৬০ সালে তোপখানা রোডে ‘রকসি ফটো সার্ভিস’ নামে একটি স্টুডিও চালু করেন। সে বছরের ডিসেম্বরে ‘বেগার্ট ইনস্টিটিউট অব স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই এ দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ফটোগ্রাফি শিক্ষার বিস্তার ঘটে। পরবর্তী সময়ে বেগার্টের ছাত্ররা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এমএ বেগ ১৯৬৮ সালে ব্রিটেনের ‘হার্টফিল্ড কলেজ অব টেকনোলজি’ থেকে রিপ্রোগ্রাফি ও ‘কোডাক ফটোগ্রাফিক স্কুল’ থেকে রঙিন ফটোগ্রাফি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে এসে তার শিক্ষা ছড়িয়ে দেন ছাত্রদের মাঝে। 

তিনি ১৯৭৮ সালে জার্মানির ‘ফটোকিনা’ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে ভারতের ‘ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশন অব দমদম’ তাঁকে সে বছরের পৃথিবীসেরা ১১ জন আলোকচিত্রীর একজন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আলোকচিত্রাচার্য মনজুর আলম বেগ আলোকচিত্রের সাথে বসবাস করেছেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। 

তার লেখা আলোকচিত্রের ওপর বই ‘আধুনিক ফটোগ্রাফি’ দুই বাংলার ফটোগ্রাফারদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। আলোকচিত্রে অবদানের জন্য তাঁকে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।

আজ প্রয়াণ দিবসে সালাম জানাই আমার ফটোগ্রাফির গুরু মনজুর আলম বেগস স্যারকে। 

লেখক: আর আই তুহিন, আইনজীবী, সহ-আহ্বায়ক, নারায়ণগঞ্জ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি। 

মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।