ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বুধবার | ২৭ মে ২০২৬ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৯:৩৯
চলমান বার্তা:
বৌদ্ধরা ক্ষুব্ধ
একটি চক্রের হাতে জিম্মি মিরপুর বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজ
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৭:২৯  (ভিজিটর : )
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১৩-তে অবস্থিত বনফুল আদিবাসী ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত বনফুল আদিবাসী গ্রীন হার্ট কলেজটি এখনও ফ্যাসিস্ট দোসরদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের দাখিল করা অভিযোগে জানা গেছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে দহরম-মহরম করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছিলেন কলেজটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো, রেক্টর তরুণ কান্তি বড়ুয়া, অধ্যক্ষ ড. সঞ্জয় কুমার ধর ও শিক্ষক মতিয়া খান। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্রগণঅভ্যুত্থানের পর তারা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে এলেও প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব ছাড়েননি। ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই চক্রের বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ তুলে ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। 

মাউশির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে তারা ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু বেশ কয়েক মাস পার হলেও মাউশি কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আবেদনকারীরা বিক্ষুব্ধ।

জানা গেছে, কলেজটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর সঙ্গে কারাবন্দি দুই সাবেক আওয়ামী সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদার এবং দীপংকর তালুকদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো নিজেই বড়াই করে প্রচার করতেন। তিনি নিজেকে কামাল আহমেদ মজুমদারের বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি ভালোবাসতেন। এছাড়াও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র জালাল মোস্তফার সঙ্গে তার সখ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

কলেজটির একাডেমিক প্রধান রেক্টর তরুণ কান্তি বড়ুয়ার বিরুদ্ধেও রয়েছে নানান অভিযোগ। আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত তরুণ কান্তি বড়ুয়া কলেজটির রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর আশীর্বাদ নিয়ে। তরুণ কান্তি বড়ুয়ার লিখিত ‘বঙ্গবন্ধু ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ পুস্তকটি নিয়ে ইতোমধ্যে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে নানান কানাঘুষা চলছে। কলেজটির অধ্যক্ষ ড. সঞ্জয় কুমার ধর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ছিলেন বলে জানা গেছে। কলেজটির আরেক প্রভাবশালী শিক্ষক হচ্ছেন মতিয়া খান। তিনি শেখ হাসিনা আমলের দাপুটে সাংবাদিক আবেদ খানের ভাতিজি হিসেবে আওয়ামী লীগের আমল থেকে কলেজটিতে প্রভাব খাটাতেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পরও কলেজটিতে মতিয়া খানের প্রভাব কমেনি। সম্প্রতি কলেজের একজন নারী নিরাপত্তা প্রহরীকে মতিয়া খান তার প্রভাব খাটিয়ে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করেছেন। এনিয়ে কলেজে ব্যাপক অসন্তোষ চলছে।

কলেজটি পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্সের জায়গায় ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্সে তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ি বৌদ্ধদের ঢাকার একমাত্র বৌদ্ধ বিহারটি অবস্থিত। পাহাড়ি বৌদ্ধরা অভিযোগ করেছেন, তাদের একমাত্র বৌদ্ধ বিহার, যেটি শাক্য মুনি বৌদ্ধ বিহার নামে পরিচিত, সেই বৌদ্ধ বিহারটির পবিত্রতা কলেজটির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে। কলেজ চলাকালীন সময়ে বৌদ্ধরা তাদের ধর্মীয় আচার পালন করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি পাহাড়ি বৌদ্ধরা বনফুল আদিবাসী গ্রীন হার্ট কলেজকে অন্যত্র স্থানান্তর করার জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর গণস্বাক্ষর-সম্বলিত দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। 

দরখাস্তের অন্যতম স্বাক্ষরকারী ডাক্তার অজয় প্রকাশ চাকমা দেশবার্তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেশবার্তাকে ডাক্তার অজয় প্রকাশ চাকমা বলেন, বনফুল কলেজটির কারণে বৌদ্ধদের ধর্মীয় আচার পালনে নানান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি বৌদ্ধ সমাজের দাবি মেনে নিয়ে ঢাকা বোর্ড কর্তৃপক্ষের উচিত হবে বনফুল আদিবাসী গ্রীন হার্ট কলেজকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা।

এদিকে বনফুল আদিবাসী গ্রীন হার্ট কলেজের নিরাপত্তা প্রহরী চয়ন দেওয়ানের বিরুদ্ধে সুমিত্র চাকমা নামের একজন বৌদ্ধ দায়ককে ধর্ম পালনে বাধা প্রদান এবং জোরজবরদস্তি করে শাক্য মুনি বৌদ্ধ বিহার থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সুমিত্র চাকমা এই জবরদস্তির বিচার ও প্রতিকার চেয়ে পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ আহ্বায়ক বরাবর একটি অভিযোগনামা জমা দিয়েছেন। 

এ বিষয়ে পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিকোলাস চাকমা দেশবার্তাকে জানান, তারা সুমিত্র চাকমার অভিযোগটি পেয়েছেন এবং এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বনফুল আদিবাসী ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোকে একটি চিঠি দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী সুমিত্র চাকমা দেশবার্তাকে জানান, গত ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার সময় শাক্য মুনি বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় আচার পালন করতে গেলে বনফুল আদিবাসী গ্রীন হার্ট কলেজের নিরাপত্তা প্রহরী চয়ন দেওয়ান তাকে বিহার থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন। তিনি চয়ন দেওয়ানের এই গর্হিত কর্মকাণ্ডের বিচার দাবি করে পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর কলেজের রেক্টর তরুণ কান্তি বড়ুয়াকে তলব করেছিল মাউশি। পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ এখনো নেয়নি অধিদপ্তর। 

জানতে চাইলে তরুণ কান্তি বড়ুয়া দৈনিক দেশবার্তাকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। মাউশিতে আমি আমার বক্তব্য তুলে ধরেছি। এখন কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেবেন, সেটা তারাই ভালো জানেন।’

দেশবার্তা/এসবি/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের ১০ জন একই ইউনিয়নের, সবাই ফেরিওয়ালা
ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের ১০ জন একই ইউনিয়নের, সবাই ফেরিওয়ালা
চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক, জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি আমজাদ
চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক, জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি আমজাদ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg