নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও খামারিদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে নিরাপদ ও উচ্চ গুণসম্পন্ন ডিম উৎপাদন বিষয়ক খামারি প্রশিক্ষণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরঙ্গন কেন্দ্রের উদ্যোগে গতকাল সোমবার ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে গাজীপুর সদর উপজেলার ৪০ জন খামারি অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে মরিঙ্গা পাতা (সজনে পাতা), অ্যাজোলা ও ডিমের খোসা’সহ অপ্রচলিত কিন্তু পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান ব্যবহার করে কীভাবে স্বাস্থ্যসম্মত ও লাভজনকভাবে ডিম উৎপাদন করা যায়, তা হাতে-কলমে দেখানো হয়। প্রশিক্ষণ দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ডিমের গুণমান বৃদ্ধির কৌশল তুলে ধরা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম অফ্রাদ। অন্যান্য অনুষদের ডিনবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন সভাপতিত্ব করেন।
প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম অফ্রাদ বলেন, নিরাপদ ডিম উৎপাদন এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় ও অপ্রচলিত পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান ব্যবহার কেবল উৎপাদন বাড়ায় না, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় পর্বে মূল বক্তা হিসেবে ছিলেন ডেইরি ও পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি খামারির হাতে হাতে প্রশিক্ষণ প্রদান করে দেখান কীভাবে অপ্রচলিত খাদ্য উপাদান ব্যবহার করে ডিমের পুষ্টিমান বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা করা যায়।
প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন সমাপনী বক্তব্যে বলেন, গবেষণালব্ধ জ্ঞান সরাসরি খামারির হাতে পৌঁছালে তার প্রকৃত সার্থকতা নিশ্চিত হয়। এই প্রশিক্ষণ খামারির উন্নতি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সমাজকে লাভবান করে।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি মাঠে বাস্তবায়ন করে পোল্ট্রি খাতকে টেকসই ও লাভজনক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিনিধি/একে