নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নে পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এক দরিদ্র ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের চালার টিন, বেড়া ও খুঁটি খুলে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দফায় উপজেলার রুখালী গ্রামে এই অমানবিক ঘটনা ঘটে। বর্তমানে মাথাগোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুখালী গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ সিকদার অভাবের তাড়নায় একই গ্রামের মিজানুর, মিরাজ ও মিকাইলসহ কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মাত্র ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ধার নেন। দীর্ঘ দিন ধরে চরম অভাবের কারণে সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় পাওনাদাররা তাকে মানসিক ও শারীরিক চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে পাওনাদারদের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান জাহিদ।
অভিযোগ উঠেছে, জাহিদ বাড়িতে না থাকার সুযোগে গত ১৫ এপ্রিল (বুধবার) দুপুরে অহিদ বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর বিশ্বাস ও কাদের বিশ্বাসের ছেলে মিরাজ বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল লোক জাহিদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বসতঘরের চালার টিন ও বেড়া উপড়ে ফেলে দেয়। ঘটনার এখানেই শেষ নয়; পরদিন বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়ে রান্নাঘরের চালা, খুঁটি এমনকি ঘরের আসবাবপত্রও লুট করে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "সামান্য কয়েক হাজার টাকার জন্য ওরা আমাদের ঘরবাড়ি সব কেড়ে নিল। এখন আমরা ছেলেমেয়ে নিয়ে কোথায় দাঁড়াব?"
তবে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মিকাইল বিশ্বাস। তিনি দাবি করেন, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তারা সেখানে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু কোনো লুটতরাজ বা বেআইনি হামলা করা হয়নি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। আইনের তোয়াক্কা না করে এভাবে ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস বলেন, "আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভুক্তভোগী পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।"
টাকার জন্য মাথাগোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে এখন দিশেহারা জাহিদের পরিবার। তারা এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ