প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) মডেলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে (ইউএইচএফপিও) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত দুই সরকারের গাফিলতিতে হাম ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হামের প্রাদুর্ভাব থেকে বহু শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউএইচএফপিও সম্মেলন ২০২৬ শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, এটি স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা এবং ‘Prevention is better than cure’ নীতিতে এগিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য। স্বাস্থ্যখাতে ক্রমান্বয়ে জিডিপির ৫% বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
তারেক রহমান বলেন, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা শক্তিশালী করা এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পূর্ণাঙ্গ মাতৃত্ব ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে ৮০% পদে নারীদের নিয়োগ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ ও সহজ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যাবে। স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার নেতৃত্ব, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত ও জনবল ঘাটতি দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা জোরদার করা হবে।
কর্মকর্তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের চলাচলের জন্য গাড়ির তেল ও চালকের ব্যবস্থা করা হবে; তবে এজন্য আন্তর্জাতিক সমস্যা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছে সরকার। এছাড়া কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা পাঁচ শতাধিক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
দেশবার্তা/এসবি/একে