সুনামগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষার্থীসহ পাঁচ জনের মৃত্যু ঘটেছে। শনিবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় হাওরে ধান কাটা মাড়াইকালে এই ঘটনা ঘটে।
ধর্মপাশায় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩) নামে দুই জনের মৃত্যু ঘটে। হবিবুর উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে।
হবিবুর রহমান তার চাচার সাথে টগার হাওর সংলগ্ন চকিয়াচাপুর গ্রামে বোরো ধান কাটতে যান। সেখানে দুপুরের দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয় এবং বজ্রপাত হলে হবিবুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হয়। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় হবিবুরকে ধর্মপাশা সদর হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রওনা দিলে পথে হবিবুরের মত্যু হয়। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
অপর দিকে দুপুর একটার দিকে জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর ইসলামপুর গ্রামেও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ওই গ্রামের জয়নাল হক (৩৫), তার ছেলে রহমত উল্লাহ এবং লাল সাধুর স্ত্রী শিখা মনি (২৫) গুরুত্বর আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রহমত উল্লাহকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং জয়নাল ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
একই সময়ে তাহিরপুরে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) নামের একজন বজ্রপাতে মারা যান। আরেকজন আহত হন। নিহত কালা মিয়া উপজেলার জামলাবাজ গ্রামের আবু বকরের ছেলে।
জামলাবাজ গ্রামের সামনে একটি হাসেঁর খামারে এই ঘটনা ঘটে। দুইজনেই এই খামারে কাজে ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। নিহতের বাড়ি সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর। পাগনার হাওরে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে নুরুজ্জামান ও তার চাচাতো ভাই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অপর ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছে।
দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে কালিয়াগোটার (আতরার) হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ছাতকে নিজের বসতঘরে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে আরশ আলী (৫৫) নামের এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আরশ আলী উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বড়কাপন গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরশ আলী পেশায় একজন কৃষক। বসতঘরে বিদ্যুতের মেরামতের জন্য পেশাদার কাউকে না পেয়ে তিনি নিজেই ঠিক করার চেষ্টা করেছিলেন। এসময় বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা দ্রুত তাকে কৈতক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক আরশ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছাতক থানাধীন জাউয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হযরত আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় ইউপি সদস্য আবদুন নুর, মুরুব্বি রেজা মিয়া তালুকদার, কবি আহমদ আল কবির চৌধুরী, মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, আবদুর রউফ, আতাউল হক, সাবেক মেম্বার গিয়াস উদ্দিন, হারিছ আলী, অযুদ মিয়াসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের কোন অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হযরত আলী।
প্রতিনিধি/আরএইচ