আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মহাপরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দেশের পানি সমস্যার সমাধান সম্ভব। খাল খননের মাধ্যমে বন্যার সময় জানমাল, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।
আজ সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে দুপুর ২টায় নিজের জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। দুপুর আড়াইটায় তিনি জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।
চৌকিরদহ খালের স্মৃতি চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই খালটি আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখননের ফলে বর্ষার অতিরিক্ত পানি যেমন নিষ্কাশন হবে, তেমনি শুকনো মৌসুমে কৃষকরা সেচের পানি পাবেন। এলাকার মানুষের উপকারের জন্যই এই উদ্যোগ।’
স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চলুন আমরা সবাই মিলে খাল খনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাতে হবে। এখানে মাছ চাষের সুযোগ তৈরি করা হবে যাতে বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান হয়। পাশাপাশি মা-বোনেরা খালের পাড়ে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নদী ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কুফল তুলে ধরে বলেন, এর ফলে একদিকে মানুষ পানির কষ্টে ভুগছে, অন্যদিকে বর্ষায় পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। তাই খাল খনন করা এখন সময়ের দাবি।
নিজে এলাকার সন্তান হিসেবে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, ‘সব কর্মসূচি যেন সফল হয় সেজন্য দোয়া করবেন। কয়েকদিন পর আবারও আমি আপনাদের মাঝে আসব ইনশাআল্লাহ।’
বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত অবস্থান শেষে বিকেল ৫টায় বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
দেশবার্তা/একে