ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ২০:৩০
চলমান বার্তা:
জাতিসংঘ
ইরান যুদ্ধে ব্যয় করা মার্কিন অর্থে প্রাণ বাঁচত ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের
ইউএনবি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ২০:৩০ আপডেট: ২১.০৪.২০২৬ ২০:৫৬  (ভিজিটর : )

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংস্থার (ওসিএইচএ) প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার ‘বেপরোয়া’ যুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে যে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করছেন, তা দিয়ে ৮ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।

স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে দেওয়া এক বক্তৃতায় সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক ও একাধিক প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ফ্লেচার এ কথা বলেন।

ফ্লেচারের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইরানকে বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকির মতো সহিংস ভাষার স্বাভাবিকীকরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এটি প্রতিটি ‘সম্ভাব্য স্বৈরাচারীকে’ একই ধরনের হুমকি এবং কৌশল ব্যবহারে উৎসাহিত করে।

এ সময় ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। ফ্লেচারের অভিযোগ, ব্রিটিশ রাজনীতিবিদরা গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়িতে লিপ্ত যা যুক্তরাজ্যকে একটি ‘রক্ষণাত্মক অবস্থানে’ ফেলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সাহায্য খাতে কাটছাঁট এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, এখন বিভিন্ন সম্মেলনে যখন যুক্তরাজ্য এই বিষয়ে নিজেদের ‘নেতৃস্থানীয়’ বলে দাবি করে, তখন উপস্থিতরা মুচকি হাসে।

মানবিক বিষয় ও জরুরি ত্রাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ওসিএইচএর প্রধান ফ্লেচার বর্তমানে মানবিক সহায়তা তহবিলের চরম সংকটের সঙ্গে লড়াই করছেন। তিনি একে ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ তার বাজেট ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

তিনি জানান, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কারণে নয়, বরং আদর্শগত কারণ এবং প্রতিরক্ষা বাজেটের চাহিদার সংমিশ্রণে আন্তর্জাতিকভাবে বৈদেশিক সাহায্যে যে কাটছাঁট করা হয়েছে, তারই ফল।

ফ্লেচার বলেন, ইরানের যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে। খাদ্য ও জ্বালানি মুদ্রাস্ফীতি ২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়ে তিনি বলেন, সাব-সাহারা আফ্রিকা এবং পূর্ব আফ্রিকায় আমরা আগামী কয়েক বছর এর প্রভাব অনুভব করব, যা আরও বহু মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে।

ফ্লেচার বলেন, এই যুদ্ধের প্রতিটি দিনের জন্য ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য আমার তৈরি করা ‘অত্যন্ত অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনা’র পুরো লক্ষ্যমাত্রা হলো ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এই বেপরোয়া যুদ্ধের দুই সপ্তাহের কম সময়ের খরচ দিয়ে আমরা সেই অর্থায়ন করতে পারতাম। কিন্তু এখন আমরা তা পারছি না।

তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করেই এই ধারণাটি স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে ‘আমরা সবকিছু উড়িয়ে দেব, আমরা তোমাদের বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব, তোমাদের সভ্যতা ধ্বংস করে দেব’। এই ধরনের ভাষার স্বাভাবিকীকরণকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এটি বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরাচারী হতে চাওয়া ব্যক্তি, যারা আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে বেসামরিক অবকাঠামো এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাদের এই ধরনের ভাষা এবং কৌশল ব্যবহার করতে আরও সুযোগ করে দেয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ককে একটি ‘চরম অনিশ্চয়তা বা রোলারকোস্টার রাইড’ হিসেবে বর্ণনা করেন ফ্লেচার। তবে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের টিমকে এটি বোঝাতে কিছুটা সফল হয়েছি যে জাতিসংঘ কেবল একদল অযোগ্য, অকেজো ও ক্লান্ত আমলাদের আস্তানা নয়।’

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সমালোচনা করে ওসিএইচএর প্রধান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং আবাসন ব্যবসা পরিচালনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমি ট্রাম্প প্রশাসনে যাদের সঙ্গে কাজ করছি, তাদের বেশিরভাগই আবাসন ব্যবসা থেকে আসা। বিশ্বের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।

রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সব কাজ শেষ করার পর প্রক্রিয়ার শেষে করমর্দন করে। কিন্তু আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরা আগে করমর্দন করে দেখে যে ‘আমি কি এই ব্যক্তিকে বিশ্বাস করতে পারি?’ এবং তারপর বলে ‘চলুন চুক্তি করি’... এটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি কম আগ্রহী, তাই জাতিসংঘের পতাকা নিয়ে প্রবেশ করলে তা আপনাকে খুব একটা সাহায্য করবে না।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে আমরা যারা যুক্ত, তারা নিশ্চয়তা, স্থিতিশীলতা এবং প্রক্রিয়া পছন্দ করি। আমাদের প্রোটোকল, মানচিত্র এবং পতাকার দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়। আমরা শৃঙ্খলা পছন্দ করি, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, বিশৃঙ্খলা বেশি কার্যকর। তারা মনে করে অনিশ্চয়তা, প্রতিপক্ষ ও বন্ধুকে অপ্রস্তুত করে দেওয়ার মাধ্যমে তারা বেশি ফলাফল পান। আমরা দেখব শেষ পর্যন্ত কী হয়।

ফ্লেচার বলেন, ট্রাম্প যদি ১৪টি যুদ্ধ শেষ করেন, তবে তাকে এর জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হোক; তবে কেবল কথা না বলে কাজগুলো আসলে শেষ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, গর্ভপাত বা ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে যদি নতুন কোনো শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, তবে মার্কিন সহায়তা গ্রহণ করবেন কি না—এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তিনি রাতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারছেন না।

তিনি বলেন, প্রশ্ন হলো, সেই শর্ত মেনে আমরা কি সেই টাকা নেব, এটা জেনেও যে তা লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাবে? নাকি নেব না? শর্ত মেনে নেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।

ফ্লেচারের দাবি, যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক কাঠামোটি ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্পূর্ণরূপে মেরুকৃত। তার ভাষ্য, আমরা এখন একটি লেনদেনমূলক ভূ-রাজনৈতিক মুহূর্তে রয়েছি যেখানে সদস্য দেশগুলো নিরাপত্তা পরিষদকে এমন একটি যন্ত্র হিসেবে দেখে না যার মাধ্যমে তাদের বিশ্ব শান্তির জন্য কাজ করা উচিত।

বাজেট কাটছাঁটের ফলে এর প্রভাব বিশাল হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি যদি কোনো সংস্থা বা এজেন্সির প্রধান হতাম এবং আমার ৫০ বিলিয়ন ডলারের সংস্থাটি যদি এই বছর ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসত, তবে সম্ভবত এতক্ষণে আমি বরখাস্ত হতাম।

আমার পরিসংখ্যানগুলো সুখকর নয়। একদিকে অর্থ কমে আসছে, অন্যদিকে প্রয়োজন বেড়ে বাড়ছে। এটি মূলত ব্যর্থতার একটি ধরন, তাই আমাদের ভিন্ন কিছু করতে হবে।

যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে মার্কিন কাটছাঁট অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কঠিন ছিল (কারণ অতীতে তারা তহবিলের ৪০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করত), তবে পুরো ইউরোপজুড়েই এ সাহায্য কমছে।

বিগত সময়ে মোট জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৈদেশিক সাহায্যে ব্যয় করার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের জন্য কয়েক দশক ধরে এ ব্যয় করার বিষয়টি ছিল একটি পবিত্র দলীয় প্রতিশ্রুতি যা গত কয়েক বছরে ধুলোয় মিশে গেছে।

তিনি বলেন, এই কাটছাঁট যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় খুবই সামান্য, কিন্তু এর ফলে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। কারণ যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য দেশকেও একই অজুহাত দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

যুক্তরাজ্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য এখন নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত এবং গত ১০ বছর ধরে এটিই চলছে। একপর্যায়ে তাদের এই রক্ষণাত্মক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের প্রকৃত সম্পদ যেমন: ত্রাণকার্যে নেতৃত্ব, বিবিসি, সৃজনশীল শিল্প, প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা এবং সামরিক শক্তির মতো জায়গাগুলো ধ্বংস করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে আমাদের বিনয়ী হওয়া উচিত, সেখানে আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী এবং যেখানে আমাদের আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত, সেখানে আমরা অতিরিক্ত বিনয়ী হওয়ার প্রবণতা দেখাই। তবে এই মুহূর্তে শান্তভাবে দক্ষতা দেখানোই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মানবতাকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, গত তিন বছরে ১ হাজার জনেরও বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে অনেকেই ড্রোন হামলার শিকার।

ফ্লোচার বলেন, আমরা হচ্ছি জরুরি সেবা সংস্থা, আমরা ফায়ার ইঞ্জিন বা অ্যাম্বুলেন্সকর্মীর মতো যারা বেঁচে যাওয়া মানুষদের সাহায্য করতে যাই। কিন্তু কেন জানি এটি এখন এমনই গ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে যে আমাদের বিপুল সংখ্যায় হত্যা করা হচ্ছে। আবার যারা আমাদের হত্যা করছে, তাদের কোনো জবাবদিহিতাও নেই।

নিরাপত্তা পরিষদের এক সদস্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের কেবল সাধারণ কোনো বিবৃতি দেবেন না যে ‘মানবিক কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া উচিত’, বরং ফোন তুলুন। যারা আমাদের মারছে, তাদের নাম ধরে ডাকুন; যারা এই কাজ করছে, তাদের অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ইরান
হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ইরান
অধিবেশন কক্ষেই খাচ্ছিলেন এমপি, ধরে ফেললেন স্পিকার
অধিবেশন কক্ষেই খাচ্ছিলেন এমপি, ধরে ফেললেন স্পিকার
মাদক ও তামাকজাত দ্রব্যের বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর
মাদক ও তামাকজাত দ্রব্যের বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg