নওগাঁয় জমি দখলের উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে চার ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত ওই চার ব্যক্তি বুধবার (২২ এপ্রিল) নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ওই চার ব্যক্তি হলেন, নওগাঁ পৌরসভার চকরামচন্দ্র এলাকার বাসিন্দা মতিউর রহমান, আবু বক্কর সিদ্দিক, মোস্তাফিজুর রহমান ও মশিউর রহমান। এই মামলার অপর আসামি জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধেও প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার চকরামচন্দ্র মৌজার একটি জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে নওগাঁ জেলা অ্যাডভোকেট বার ভবনে ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল উভয়পক্ষ আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আলোচনায় বসে। এ সময় বিবাদীপক্ষ একটি দলিল উপস্থাপন করে জমির মালিকানা দাবি করে। তবে পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, উপস্থাপিত দলিলটি ভুয়া এবং সংশ্লিষ্ট জমির সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। এ ঘটনায় বিবদমান একটি পক্ষ আদালতে মামলা করে।
ওই মামলার শুনানি করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই-এর সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিদর্শন, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং দালিলিক প্রমাণ যাচাই করে দেখেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মতিউর রহমান, আবু বক্কর সিদ্দিক, মোস্তাফিজুর রহমান ও মশিউর রহমান পরস্পর যোগসাজশে অন্যের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি আত্নসাৎ করার জন্য জাল দলিল তৈরি করে বিবদমান জমি নিজেদের নামে দাবি করার চেষ্টা করেছেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, আসামিদের মধ্যে কয়েকজন মূল মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও জমি নিজেদের বলে প্রচার করে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল প্রস্তুত করে তা ব্যবহার করেন। এ ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৪ (ক), ৫ (২) ও ১৬ ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়। তদন্ত শেষে পিবিআই সম্প্রতি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত মোঃ মতিউর রহমান, মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ও মোঃ মশিউর রহমান আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর আসামি জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধেও প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ