গাজীপুরের শ্রীপুর চৌরাস্তা থেকে বরমী অভিমুখী নির্মাণাধীন একটি সড়কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কার্পেটিং উঠে যাওয়া এবং সড়কের গায়ে দৃশ্যমান ক্ষতচিহ্ন তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এখনো সড়কটি আনুষ্ঠানিক ভাবে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। এর মধ্যেই একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, কাজ শেষ হওয়ার আগেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে কিছুদিন পরই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। আরেক বাসিন্দা বাদল জানান, একটি টেকসই সড়কের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবতা হতাশাজনক।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আক্কাস অভিযোগ করেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। অন্যথায় সরকারি অর্থের অপচয় হবে। একই উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবসায়ী ফজলুল হক বলেন, আমরা বারবার সংস্কার নয়, টেকসই সমাধান চাই।
জানা যায়, প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি ঢালাই সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। শ্রীপুর পৌরসভার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিয়ান এন্টারপ্রাইজ। যার মালিক ইমদাদুল হক।
গত ৪ মার্চ গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু সড়কটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তদারকির অভাব এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কারণেই কাজ শেষ হওয়ার আগেই এমন ত্রুটি দেখা দিয়েছে।
এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ইমদাদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
অভিযোগ উঠেছে, শ্রীপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার। যদিও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, প্রচণ্ড তাপমাত্রার কারণে সড়কের কিছু অংশে ‘হেয়ার ক্র্যাক’ বা সূক্ষ্ম ফাটল দেখা দিয়েছে, যা ইতোমধ্যে মেরামতের কাজ চলছে।
পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহেদ আক্তারও একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এটি বড় ধরনের ফাটল নয়, বরং তাপমাত্রাজনিত স্বাভাবিক চুলের মতো ফাটল। পানি ব্যবহার করে ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে তা সমাধান করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, রেডিমিক্স কংক্রিট ব্যবহৃত হওয়ায় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ নেই।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কাজ না করেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ