আনন্দ, আবেগ, গর্ব এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) উদযাপিত হয়েছে ‘গ্র্যাজুয়েশন দিবস ২০২৬’, যা নবীন গ্র্যাজুয়েটদের জীবনে এক স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উইন্টার ২০২৪ টার্মের বিএস (কৃষি), বিএস (ফিশারিজ), বিএস (কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন) এবং ডিভিএম প্রোগ্রামের চারটি অনুষদ থেকে মোট ২৯৩ জন শিক্ষার্থী এদিন ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁদের দীর্ঘ একাডেমিক যাত্রার সফল সমাপ্তি এবং নতুন জীবনের সূচনার এ দিনটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয় সকাল সাড়ে ১০টায় এক বর্ণিল শোভাযাত্রার মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত এ শোভাযাত্রায় অংশ নেন ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন ৩৬শে জুলাই চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
পরে বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় গ্র্যাজুয়েশন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আজ্জাদসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা, যিনি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনাও করেন। পরবর্তীতে অনুষদগুলোর ডিনরা ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্যের নিকট উপস্থাপন করেন।
ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে উঠে আসে চার বছরের স্মৃতি, বন্ধুত্ব, কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষাজীবনের নানা অভিজ্ঞতা। আবেগঘন এ মুহূর্তে অনেকের চোখে আনন্দাশ্রু, কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা এবং হৃদয়ে ছিল নতুন স্বপ্নের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপাচার্য গ্র্যাজুয়েটদের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “কৃষিপ্রধান বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে, যার পেছনে দেশের কৃষিবিদদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ভবিষ্যতের দক্ষ, মানবিক ও বিশ্বমানের কৃষিবিদ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে জ্ঞান, গবেষণা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বে সমৃদ্ধ হতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং গবেষণা কার্যক্রম ইতোমধ্যে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুসরণীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী আয়োজনে গ্র্যাজুয়েটদের সঙ্গে অতিথিদের প্রাণবন্ত ফটোসেশন, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ছিল বর্ণিল সাজসজ্জা, ব্যানার-পোস্টার, ফটো কর্নার এবং মিলনমেলার আবহ।
সব মিলিয়ে, গ্র্যাজুয়েশন দিবস ২০২৬ ছিল নবীন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের প্রেরণা হয়ে থাকবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ