ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  শনিবার | ১১ জুলাই ২০২৬ | ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ০:০৮
চলমান বার্তা:
মধ্যে রাত থেকে শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, নদীতে নামার প্রস্তুতি জেলেদের
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:৪৮  (ভিজিটর : )

পটুয়াখালী তেঁতুলিয়া নদীতে দীর্ঘ দুই মাস ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা শেষে হচ্ছে বৃহস্পতিবার মধ্যে রাতে। আর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। মাছ শিকারের জাল, নৌকা ও ট্রলার মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কাঙ্ক্ষিত মাছ শিকারে ধার-দেনা পরিশোধ করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা। জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার পরবে এমন প্রত্যাশার কথা জানালেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

দেশের ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে জাটকা সংরক্ষণের জন্য ১ মার্চ  থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস ৬ জেলার ৫টি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। জাটকা সংরক্ষণের জন্য দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে পটুয়াখালীর তেতুলীয়ায়  আবার জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রায় ২০ হাজার জেলে। ভোলা জেলার ভেদুরিয়া হতে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার চর রুস্তম পর্যন্ত তেতুলিয়া নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল।

এই দুই মাস তেতুলিয়া নদীতে জেলেরা যাতে মাছ ধরতে না পারে সেজন্য প্রতিদিন মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসন যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে।  অভিযানে কয়েক লক্ষ মিটার জাল জব্দ করা হয়। জব্দ কৃত জাল তেতুলিয়া নদীর পারে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলা হয় বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

জেলে সলেমান হাওলাদার জানান, এতদিন মুদি দোকানের বাকি ও স্থানীয়দের কাছ থেকে ধার-দেনা করে সংসার চালিয়েছি। বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার পর নদীতে গিয়ে আশা করছি ইলিশসহ সব ধরণের বড় বড় মাছ পাবো। মাছ বিক্রি করে ধার-দেনা পরিশোধ করবো এবং পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো থাকতে পারবো। 

জেলে রহিম গাজী বলেন, আমরা এই দুই মাস তেতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে নামি নাই,  আশা করছি নদীতে ইলিশ সহ অনন্য মাছ ধরতে পারবো। তাতে এই দুই মাসের ধার দেনা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

জেলে কবির মৃধা বলেন, এই দুই মাস সরকার যদি আমাদের চালের পাশাপাশি কিছু আর্থিক সহযোগিতা করতো তাহলে আমাদের ভালো হতো। আমাদের এই দুই মাস কোন কাজ থাকে না। কিন্তু কিস্তির টাকা ঠিকই দিতে হয়।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা উৎসাহ নিয়ে তেঁতুলিয়া নদীতে নামবে। নিয়ম মেনে জেলেরা তাদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ শিকার করতে পারবে। এতে তাদের দুমাসের লোকসান পুষিয়ে উঠবে।

তিনি আরো জানান, পটুয়াখালীর ৮ টি উপজেলার মধ্যে ৪টি উপজেলা অভয়াশ্রমে আওতায় ছিল। পটুয়াখালীতে জেলে রয়েছে ১ লাখেরও বেশি এর মধ্যে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৮০ হাজার। অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট জেলায় এ সময় মৎস্য আহরণে বিরত থাকা নিবন্ধিত জেলেদের এরই মধ্যে ৪০ কেজি হারে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রতিনিধি/আরএইচ
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।