হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা নিরসন, অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ এবং হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘হাওর অঞ্চলবাসী, ঢাকা’র উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে মার্চ থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত তিন দফার বৃষ্টি এবং বাঁধ ভেঙে অন্তত ৪৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। শিলাবৃষ্টিতে আরও ৮০০ হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে হাওর ও মেঘালয় পাহাড়ে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে হাওরবাসী এখন দিশেহারা। ধান কাটার সুযোগ পেলেও বৃষ্টির কারণে তা শুকানো যাচ্ছে না, ফলে খলাতেই ধান পচে নষ্ট হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি হাওরে অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধই এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ছাড়াই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে এবং এতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বক্তারা দ্রুত নদী-খাল খনন করে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বছরব্যাপী খাদ্য সহায়তা প্রদান, কৃষি ও এনজিও ঋণের কিস্তি মওকুফ, অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর সুইচ গেট নির্মাণ এবং বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।
বক্তারা আরও বলেন, ফসল তলিয়ে যাওয়া মানে কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, এটি একটি মানবিক বিপর্যয়। কৃষকের পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং গবাদিপশুর খাদ্যসংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলকে দ্রুত হাওরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
ডা. সৈয়দ উমর খৈয়ামের সভাপতিত্বে এবং মেনন চৌধুরীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক ড. হালিম দাদ খান, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা চৌধুরী, ইমতেছার আহমেদ চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব গোলাম শফিক, কাশমির রেজা এবং কামরুল হাসান বাবুসহ আরও অনেকে।
বক্তারা স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও গবেষকদের কারিগরি জ্ঞানের সমন্বয়ে হাওর সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর জোর দেন।
দেশবার্তা/একে