ঠাকুরগাঁওয়ের মুন্সিপাড়া এলাকায় চলাচলের রাস্তায় ইটের দেয়াল তুলে ব্যারিকেড দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে ঘর থেকে বের হতে না পেরে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। ব্যারিকেডের কারণে অসুস্থ বৃদ্ধের ওষুধ আনা, শিশুদের স্কুল-মাদ্রাসায় যাওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন মহকুমা আমলে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ত্রাণ হিসেবে পাওয়া প্রায় ৯ শতাংশ জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। জমির মালিক মরহুম হাবিবের দুই ছেলে আব্দুল নাইম ও আব্দুল আজিজের (মুন্না) পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৩ শতাংশ জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। ২০১৬ সালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হলেও, সেই লিখিত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আব্দুল আজিজের পরিবার পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত দুই সপ্তাহ আগে চলাচলের পথে ইটের দেয়াল গেঁথে ব্যারিকেড দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা দেয়াল বেয়ে যাতায়াত করছেন। পরিবারের শিশুরা নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না।
ভুক্তভোগী রানী আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, আমার শশুর বাড়ি এটি। আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেবো কীভাবে আর মাদ্রাসায় পাঠাবো কীভাবে জানি না। এভাবে যুদ্ধের মতো জীবন পার করছি।
তাঁর ৯ বছরের ছেলে মিরাজ আলম জানায়, রাস্তা পার হতে না পারায় সে ঠিকমতো মাদ্রাসায় যেতে পারছে না।
রাস্তা বন্ধের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজকে পাওয়া না গেলেও তাঁর ছেলে মন্টি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি যেন কেউ সমাধানে আসে, সেজন্যই আমরা রাস্তা বন্ধ করেছি। তবে পরিবারটির ভোগান্তির বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার (এসিল্যান্ড) শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশাদুল হক বলেন, আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে পথ বন্ধ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/একে