এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে ভারতীয় রুপি। ডলারের বিপরীতে রুপির মান ধারাবাহিকভাবে কমছেই। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে ভারতীয় রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। এর ফলে গত বছর এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার তকমা পেয়েছে ভারতের এই মুদ্রা।
পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, কেবল মার্কিন ডলার নয়- ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, জাপানি ইয়েন ও চীনা ইউয়ানের মতো বিশ্বের অন্য প্রধান চারটি মুদ্রার বিপরীতেও রুপির মান উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী সময়ে আলোচনা সাপেক্ষে সেই শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও মুদ্রাবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব কাটেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছর রুপির দরপতনের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এই বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা। তবে বর্তমানে সেই অনিশ্চয়তা অনেকটা কেটে গেলেও রুপির পতনের লাগাম টানা যাচ্ছে না।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রুপির মান প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। এর আগের বছরও সমপরিমাণ দরপতন দেখেছিল ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য টানাপোড়েন, বৈদেশিক মূলধনের দুর্বল প্রবাহ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ফলে ভারতের বহিঃবাণিজ্য খাতের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) কঠোর কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। এর মধ্যে ডলারের চাহিদা নিয়ন্ত্রণে তেল আমদানি সংশ্লিষ্ট লেনদেন সীমিত করা, সোনা আমদানির ওপর বিধিনিষেধ বা মুদ্রানীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপের মতো বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
একদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া এবং অন্যদিকে তার প্রভাবে ভারতীয় রুপির মান কমে যাওয়া- এই দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি। গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় রুপির মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। সেদিন প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির মান দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৩৩ রুপি। যদিও পরে দর কিছুটা সংশোধন হয়েছে, তবে বাজার এখনো বেশ অস্থিতিশীল। বর্তমানে প্রতি ডলার কিনতে ৯৪ রুপিরও বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার অসামঞ্জস্যতা বজায় থাকলে নিকট ভবিষ্যতে রুপির মান আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।
দেশবার্তা/একে