ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ৫ মে ২০২৬ | ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১৮:০৯
চলমান বার্তা:
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশো কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস
দেশবার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১৩:৪৪ আপডেট: ০৫.০৫.২০২৬ ১৬:৫৮  (ভিজিটর : )

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এবং বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কয়েকশো কোটি ডলার মূল্যের মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। 

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

সিএসআইএসের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মার্ক কানসিয়ান জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২৩০ কোটি থেকে ২৮০ কোটি ডলার মূল্যের মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান, রাডার ব্যবস্থা এবং যুদ্ধবিমান। 

বিশেষ করে গত ২৬ মার্চ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যখন সামরিক সাফল্যের বড়াই করছিলেন, তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ৭০ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ অ্যাওয়াকস রাডার বিমান ধ্বংস হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু শত্রুপক্ষের হামলা নয়, ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের ভুলে নিজেদের ওপর হামলায়ও বড় ক্ষতি হয়েছে। মার্চ মাসের শুরুতে কুয়েতে এমন এক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এছাড়া হাইপারসনিক হুমকি শনাক্ত করতে সক্ষম শক্তিশালী ‘থাড’ প্রযুক্তির অন্তত একটি রাডার ইরান ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯৭ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রশাসন যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন সরকারের বিশেষ অনুরোধে স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্ল্যানেট ল্যাবস’ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধের কোনো ছবি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করছে না। 

তবে ইরানের স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক ওমর আশুর আল-জাজিরাকে বলেন, রাজনৈতিক কারণে এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ট্রাম্প প্রশাসন এই মুহূর্তে লোকবল ও সরঞ্জাম হারানোর খবর প্রচার করতে চাইছে না। 

তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তানে ছোট ছোট যুদ্ধে জয়ী হলেও কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছিল, এবারও ইরানের ক্ষেত্রে একই ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধাক্কা। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করার চেষ্টা করছে, তবে দীর্ঘ ৪৫ বছর এই অঞ্চল নিয়ে পরিকল্পনা করেও যুদ্ধের শুরুতে পর্যাপ্ত বাহিনী প্রস্তুত না রাখাটা পেন্টাগনের একটি কৌশলগত ভুল হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

অন্যদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের প্রথাগত সামরিক কাঠামো দুর্বল হলেও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
এক বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল
এক বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল
‘পশ্চিমবঙ্গে যে সরকারই আসুক আমাদের ফরেন পলিসি বাংলাদেশ ফার্স্ট’
‘পশ্চিমবঙ্গে যে সরকারই আসুক আমাদের ফরেন পলিসি বাংলাদেশ ফার্স্ট’
‘শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত’
‘শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত’
চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় নির্বাচন
চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় নির্বাচন
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg