তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই আবারও গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়। সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন তিনি জোগাড় করতে পেরেছেন কিনা, তা জানতে তাকে লোক ভবনে ডাকা হয়।
বিধানসভা নির্বাচনে চমক দেখিয়ে ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দলটি এখনও ১০ আসন পিছিয়ে রয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে গভর্নরকে টিভিকে জানিয়েছে যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে বিধানসভায় আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। পাশাপাশি সরকার গঠনের সুযোগ না দিলে আইনি পথেও যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে দলটির।
এর আগে বুধবার গভর্নরের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে সরকার গঠনের দাবি জানালেও রাজভবন সূত্র জানিয়েছিল, বিজয়ের উপস্থাপিত সমর্থনের সংখ্যা নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না গভর্নর।
বর্তমানে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়কের সমর্থন পাচ্ছে টিভিকে। তবে কংগ্রেস শর্ত দিয়েছে, বিজেপির মতো ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির’ সঙ্গে কোনো জোট করা যাবে না।
এদিকে সরকার গঠনের জন্য বাকি সমর্থন জোগাড়ে সিপিআই, সিপিএম, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং পট্টালি মাক্কাল কাচ্চির (পিএমকে) সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে বিজয়ের দল। এই সমর্থনগুলো নিশ্চিত হলে টিভিকের আসন সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১২৩-এ।
তবে বিজয় ত্রিচি ইস্ট ও পেরাম্বুর—দুটি আসনেই জয় পাওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে। সেক্ষেত্রে মোট সংখ্যা নেমে আসবে ১২২-এ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমীকরণ সহজ নয়। কারণ ভিসিকে বর্তমানে ডিএমকের জোটসঙ্গী এবং পিএমকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর শরিক। ফলে তাদের জোট পরিবর্তন করতে হবে।
অন্যদিকে, এআইএডিএমকের সঙ্গেও টিভিকের সম্ভাব্য সমঝোতার গুঞ্জন ছড়ালেও দলটির শীর্ষ নেতারা তা অস্বীকার করেছেন। এআইএডিএমকে নেতা সিভি শানমুগাম ও কেপি মুনুসামি জানিয়েছেন, দলটির সঙ্গে বিজয়ের কোনো জোট হচ্ছে না।
যদিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, এআইএডিএমকের অন্তত এক ডজন বিধায়ক বিজয়ের প্রতি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন। এদের কয়েকজনকে পুদুচেরির একটি রিসোর্টে রাখা হয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।
তবে বিজয় নিজেও বিজেপির সঙ্গে এআইএডিএমকের সম্পর্কের কারণে ওই জোটে যেতে অনাগ্রহী বলে জানা গেছে।
এদিকে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে যদি টিভিকে ১১৮ আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে গভর্নর নতুন বিধানসভা স্থগিত করে প্রেসিডেন্টস রুল জারির সুপারিশ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আবারও নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বর্তমানে টিভিকের নবনির্বাচিত ১০৭ জন বিধায়ককে চেন্নাই থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের মামল্লাপুরমের একটি রিসোর্টে রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতিতে নতুন হলেও ক্ষমতার অঙ্ক ও রাজনৈতিক কৌশল খুব দ্রুতই আয়ত্তে নিচ্ছেন বিজয়। সূত্র: এনডিটিভি
দেশবার্তা/আরএইচ