যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করে নিজেদের তিনটি তেলের ট্যাংকার নিরাপদে ফিরিয়ে নিয়েছে ইরান।
শুক্রবার জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত দুই দিনে পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) হয়ে খালি ট্যাংকারগুলো ইরানি জলসীমায় প্রবেশ করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রেও ইতোমধ্যে দুটি ট্যাঙ্কারের অবস্থান শনাক্ত করা গেছে।
এই ঘটনার সমান্তরালে পারস্য উপসাগরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি। গত রোববার হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া জাহাজগুলো উদ্ধার করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে শুরুর দুই দিনের মাথায় আকস্মিকভাবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানানো হলেও নেপথ্যে ছিল আরব মিত্রদের অসহযোগিতা।
জানা গেছে, প্রজেক্ট ফ্রিডম শুরুর আগে সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি ওয়াশিংটন। ফলে দেশ দুটি এই অভিযানের জন্য তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
বিষয়টি নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফোনে কথা বললেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি তারা।
তবে পরিস্থিতির নতুন মোড় নিয়েছে বৃহস্পতিবার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সৌদি আরব ও কুয়েত অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এর ফলে স্থগিত হওয়া ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পুনরায় চালুর পথে হাঁটছে পেন্টাগন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পারস্য উপসাগরে আবারও মার্কিন সামরিক তৎপরতা শুরু হতে পারে।
দেশবার্তা/একে