দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং জাটকা নিধন রোধে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম’ এবং ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ‘৫৮ দিনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ’ কার্যক্রমের আওতায় এই তৎপরতা চালানো হচ্ছে। অভিযানে এখন পর্যন্ত কয়েক কোটি মিটার অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়েছে, জাটকা নিধন প্রতিরোধে চট্টগ্রাম, বরিশাল, চাঁদপুরসহ দেশের ৯টি উপকূলীয় জেলায় নৌবাহিনীর জাহাজ ও ঘাঁটিগুলো সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষ করে বরিশাল এলাকায় ‘বানৌজা তিতাস’ নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
অভিযানে ৪৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে কম ব্যাসের নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, মশারি জাল ও চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। জাটকা নিধন প্রতিরোধ অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মিটার অবৈধ জাল আটক করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫১৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি। উদ্ধার হওয়া জাটকাগুলো স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এতিমখানায় বিতরণ এবং অবৈধ জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৯ দিনের জন্য সকল প্রকার মৎস্য আহরণ বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে গভীর সমুদ্রে নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে। সাগরে কোনো দেশি বা বিদেশি নৌযান যাতে মাছ ধরতে না পারে, সেজন্য মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে আকাশপথেও নজরদারি বা এয়ার সার্ভেইল্যান্স চালানো হচ্ছে।
নৌবাহিনীর তৎপরতায় গত ১৪ এপ্রিলের মধ্যেই সাগরে অবস্থানরত সকল ফিশিং ট্রলার উপকূলে ফিরে আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। সমুদ্রের এই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশের ১৬টি জেলায় নৌবাহিনী ‘বিশেষ কম্বিং অপারেশন’ পরিচালনা করে। সেই অভিযানেও প্রায় ১৫৮ কোটি টাকার অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছিল।
আইএসপিআর জানায়, জাতীয় সম্পদ ইলিশসহ সামগ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় তাদের এই কঠোর অবস্থান আগামী ১১ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি উপকূলীয় জেলেদের সচেতন করতেও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে বাহিনীটি।
দেশবার্তা/একে