কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ শোবিজ অঙ্গন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন এখন এক শোকবই। অনেকেই কারিনার সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের স্মৃতি ভাগ করছেন ফেসবুকে। শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে সবাই এখন অপেক্ষায় আছেন।
কারিনার মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে তাঁর বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া শেষে আগামীকাল রোববার তাঁর মরদেহ দেশে আনা হবে।
আজ শনিবার সকালে কায়সার হামিদ বলেন, ‘প্রিজার্ভ–সংক্রান্ত কিছু বিষয় আছে। সব প্রক্রিয়া শেষে আজ বেলা ৩টার ফ্লাইট ধরা সম্ভব নয়, তাই আগামীকাল রোববারের ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে ঢাকায় আসবে ওরা।’
লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে মারা যান কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর বাবা কায়সার হামিদ বলেন, ‘ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওকে আর বাঁচানো গেল না।’
মৃত্যুকালে কারিনার বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। তিনি মা-বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর দাদি।
কায়সার হামিদ জানান, আগামীকাল রোববার দুপুরে কারিনার মরদেহ দেশে পৌঁছাবে। এরপর বাদ আসর বনানী ডিওএইচএস জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন সোমবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় তাঁকে দাফন করা হবে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে আইসিইউ এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং পাশাপাশি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন কারিনা। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি।
ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন কারিনা। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ওটিটি সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
কারিনার এই অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছেন তাঁর সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা।