জাতীয় ঐকমত্য ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেছেন, সরকার রাষ্ট্র ও সমাজকে নতুনভাবে মেরামত করতে চায় এবং সেই লক্ষ্যেই চলচ্চিত্রসহ সৃজনশীল খাতকে জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিস ও বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্রসহ সৃজনশীল শিল্প সভ্যতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ 'সফট পাওয়ার' এবং এ শক্তিকে সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব শিল্পী, নির্মাতা ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের।
তিনি বলেন, সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে চায়।
নীতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের সাথে কার্যকর সংযোগ ছাড়া উচ্চমানের সৃজনশীল উৎপাদন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চলচ্চিত্র খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নবগঠিত চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড ও জুরি বোর্ডকে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বস্তরের মানুষ স্বাগত জানিয়েছে, যা সরকারের জন্য একটি বড় নৈতিক শক্তি। তিনি জানান, অতীতে এসব বোর্ড গঠন নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও এবার কোনো বিতর্ক ছাড়াই সংশ্লিষ্টরা নতুন বোর্ডকে সমর্থন জানিয়েছেন।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটে চলচ্চিত্রে অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অনুদান দ্রুত ছাড় ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণ শেষ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে সিনেমা হলের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একক সিনেমা হলগুলো টিকিয়ে রাখা ও আধুনিকায়নের জন্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে শিল্প সমালোচক ও চলচ্চিত্র বোদ্ধা মঈনুদ্দিন খালেদকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিস এর সভাপতি ড. জহিরুল ইসলাম কচি ও বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এর মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।
দেশবার্তা/একে