চট্টগ্রামের আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর ৩টি আবেদনই নামঞ্জুর করেছেন আদালত। ষষ্ঠবারের মতো সময়ের আবেদন ছাড়াও তার পক্ষে করা জামিন ও চিকিৎসার আবেদন শুনানি ছাড়াই নামঞ্জুর করা হয়।
বুধবার (২০ মে) চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে এই আদেশ দেওয়া হয়। শুনানিকালে কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত ছিলেন এবং অন্যান্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
একইসঙ্গে মামলার প্রথম সাক্ষী নিহত আইনজীবী আলিফের পিতার সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সমাপ্ত ঘোষণা করে আগামী ২৪ জুন পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার মামলার শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে তার আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য্য সাক্ষীকে জেরা করার জন্য সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিপক্ষে নিয়োজিত প্রধান আইনজীবী শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসতে পারেননি। তাই উপস্থিত সাক্ষীকে জেরা করার জন্য সময় প্রার্থনা করা হয়।
তবে আদালতে দরখাস্ত দাখিল করা হলেও শুনানির সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস ইউ নুরুল ইসলাম আদালতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, নিয়োজিত আইনজীবী শুধু স্বাক্ষরিত দরখাস্ত পাঠিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে বারবার সময় চাইতে পারেন না, যা প্রচলিত আদালত প্র্যাকটিসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শুনানি শেষে আদালত আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
পাশাপাশি, আসামির পক্ষে হাজতি আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন এবং ডান হাত ও ডান পাশ অবশ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে জেল কোডের বিধান মতে চিকিৎসার আবেদন দাখিল করা হলেও আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে আদালত সেগুলোও শুনানি ছাড়াই নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আদালত মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নিহত আইনজীবী আলিফের বাবার সাক্ষ্য সমাপ্ত ঘোষণা করে পরবর্তী সাক্ষীর প্রতি সমন ইস্যুর আদেশ দেন।
এদিকে মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণ ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মূল ভবনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আদালতে আসামিদের আনা-নেওয়ার সময় সিঁড়ি ও বারান্দাসহ চারপাশের পুরো করিডোর পুলিশ, বিজিবি ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কর্ডন করে বেষ্টনী তৈরি করে রাখেন।
এসময় আদালত ভবনের বিভিন্ন তলার রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে উৎসুক সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের ভিড় জমাতে দেখা যায়। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের এজলাসে তোলা ও নামানোর সময় আদালত প্রাঙ্গণ জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা ও স্লোগান দিতে দেখা যায়।
প্রতিনিধি/আরএইচ