চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লালানগরে একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশ। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত জানাজায় নিহতদের জীবিত একমাত্র ভাই মাওলানা এনামুল হক এনাম ইমামতি করেন।
বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টার দিকে হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, শেষবারের মতো চার ভাইকে বিদায় জানাতে।
জানাজার আগে পাশাপাশি রাখা চারটি কফিন ঘিরে তৈরি হয় শোকাবহ পরিবেশ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল, চার ভাইয়ের কফিন সামনে রেখে তাদের জীবিত একমাত্র ভাইয়ের ইমামতি করা। দৃশ্যটি উপস্থিত মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, জীবনে কখনও একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা দেখিনি। পুরো এলাকা যেন শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।
আরেক বাসিন্দা হারুনুর রশিদ বলেন, সকাল থেকেই মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই কান্না সামলাতে পারছিলেন না। এমন মর্মান্তিক ঘটনা এই এলাকার মানুষ সহজে ভুলতে পারবে না।
জানাজা শেষে মরদেহগুলো লালানগর গ্রামের বন্দাররাজা পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে পাশাপাশি খনন করা চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে ভোরে দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুল্যান্সে চার ভাইয়ের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে মরদেহগুলো দেশে পৌঁছালে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে সেগুলো গ্রহণ করেন রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। মরদেহ হস্তান্তরের সময় তিনি লাশবাহী গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়ার অ্যাডমিরাল আজিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত সহযোগিতার জন্য তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কেও ধন্যবাদ জানান।
তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিবারকে দাফন ও পরিবহন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যাতে মরদেহগুলো নির্বিঘ্নে রাঙ্গুনিয়ায় আনা যায়।
পরে বুধবার সকালে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে ওমানের আল মিলিদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন রাশেদুল ইসলাম, সাহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম।
একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু ও দাফনের ঘটনায় রাঙ্গুনিয়াজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক।
প্রতিনিধি/আরএইচ