এবারের ঈদযাত্রায় ট্রেনের শিডিউল (সময়সূচি) বিপর্যয়ের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, যাত্রীরা এবার স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা উপহার পাবেন।
শনিবার (২৩ মে) সকালে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে রেলসচিব সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
টিকিট কাটার পরও ট্রেনের ভিড়ের কারণে অনেক যাত্রী ভেতরে ঢুকতে পারেন না- এমন কোনো ঘটনা এবার ঘটবে না বলেও সবাইকে আশ্বস্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে এবার বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান।
রেলসচিব জানান, আজ ঈদযাত্রার শুরুতেই সকালে দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ট্রেনটি সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে স্টেশন ছাড়ার পরপরই এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পরে সেটিকে ফিরিয়ে এনে রিজার্ভ (বিকল্প) ইঞ্জিন যুক্ত করে আবার যাত্রা শুরু করানো হয়। এর প্রভাবে পরবর্তী কয়েকটি ট্রেন ১৫ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে ছেড়েছে।
পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক উল্লেখ করে ফাহিমুল ইসলাম বলেন, ‘শুরুতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। রংপুর এক্সপ্রেস ১৮ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। জামালপুর এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়েই ছাড়বে। আমরা আশা করছি, এরপর আর বড় ধরনের বিলম্ব হবে না।’
লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) সংকট মোকাবিলায় রেলওয়ের আগাম প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে সচিব বলেন, ‘মিটারগেজ লোকোমোটিভের কিছু সংকট রয়েছে। তাই আমরা আগে থেকেই কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। ঈদের সময় ৮৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ ৭৮ থেকে ৭৯টি প্রস্তুত রয়েছে। আগামীকাল থেকে তা ৮০টির বেশি হবে বলে আশা করছি।’
ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে নেওয়া বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), জিআরপি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলোতে ছাদে ওঠার প্রবণতা বেশি দেখা যায়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করবে।
স্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে রেলসচিব বলেন, ‘টিকিট ছাড়া যাত্রীরা যেন স্টেশনে ঢুকতে না পারে, সে জন্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তারাই সাধারণত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।’
তিনি আরও জানান, যাত্রী চাপের কারণে এবারও আসনসংখ্যার ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং (দাঁড়ানো) টিকিট রাখা হয়েছে। ঈদের সময় রেলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যা সীমিত সক্ষমতার কারণে পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয় না।
যাত্রীদের যেকোনো অভিযোগ, তথ্য বা সহায়তার জন্য রেলওয়ের হটলাইন নম্বর ১৩১-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানান রেলসচিব।
দেশবার্তা/একে