রাজধানীসহ দেশের মহানগর এলাকাগুলোতে যানজট কমানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগরের বাইরে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে এ প্রক্রিয়ায় চালকদের জীবিকা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন সড়কে রাতারাতি বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল শুরু করেছে। যানজট নিরসনের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এসব যানবাহনের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বেকারত্ব ও মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকার এমন একটি সমাধান খুঁজছে, যাতে চালকদের জীবিকা বজায় থাকে এবং একই সঙ্গে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাও উন্নত হয়। সেই লক্ষ্যেই ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে মহানগর এলাকার বাইরে পুনর্বাসনের চিন্তাভাবনা চলছে।’
তিনি জানান, অতীতেও এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ছাড়া কঠোর পদক্ষেপ নিলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সরকার ধীরে ধীরে একটি বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে এগোচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর যানজট নিরসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং এর সুফলও পাওয়া শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার ফলে যানবাহনের গতি ও সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে।’
এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলা ব্যবস্থার কারণে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্যের ঘটনা আগের তুলনায় কমে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং সরকার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই বিচারকাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া আসন্ন বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, সীমান্ত হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সেখানে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে