| চলমান বার্তা: |

এবারও চামড়ার ফ্লাইং বিজনেস করতে এসে ধরা খেয়েছেন চট্টগ্রামের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সরকার নির্ধারিত মূল্যের কথা বলা হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ তাদের। এবারও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে। কাঙ্খিত দামে বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে গেছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। ঈদুল আজহার পরদিন শুক্রবারও চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর ও আতুরার ডিপো এলাকায় সড়কের পাশে স্তূপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে শত শত কাঁচা গরুর চামড়া।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার দাম বাড়ালেও ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে সেই দামে চামড়া কেনার কোনো নিশ্চয়তা তারা পাননি। ট্যানারি মালিকরা গত বছরের তুলনায় কম দাম দিচ্ছেন। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কম দামে চামড়া কিনতে হচ্ছে।
অনেক চামড়া বিক্রেতার অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় তারা প্রতি চামড়ায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম পেয়েছেন। পাশাপাশি আগের বছরের মতোই ব্যবসায়ীরা ছাগলের চামড়া কেনায় তেমন আগ্রহ দেখাননি।
সরেজমিনে দেখা গেছে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে নগরীর আতুরার ডিপো কাঁচা চামড়ার আড়তে আসতে শুরু করেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন ‘আমরা ২১০ পিস চামড়া কিনেছি সাড়ে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা করে। কিন্তু বাজারে মাইর খাইছি। এখন ১৫০-২০০ টাকা করে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রচুর টাকা লস হয়ে গেল আমাদের।’
আতুরার ডিপো এলাকার কাঁচা চামড়ার আড়ত ঘুরে দেখা যায়, ছোট আকারের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। মাঝারি আকারের চামড়ার দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
আর বড় আকারের চামড়াও বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায়। অথচ গ্রামের হাট কিংবা বাসা-বাড়ি থেকে এসব চামড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীকে বড় চামড়ার জন্য ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে।
চট্টগ্রাম বৃহত্তর কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে একসময় দুই ডজন ট্যানারি থাকলেও এখন মাত্র একটি সচল আছে। তারাও এক লাখ থেকে দুই লাখ চামড়া কেনে। ফলে আমাদের ঢাকার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয়। ঢাকার ট্যানারি মালিকরা বাকিতে চামড়া কেনায় আমাদের হাতে নগদ টাকা থাকে না। তিনি আরও বলেন, অনেক আড়তদার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দামেও চামড়া কিনেছে। তবে যেসব চামড়া কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, সেগুলো কেউ কিনছে না। ফলে নিম্নমানের চামড়া ফেলে গেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
চলতি বছর সরকার ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে মাঠপর্যায়ে সেই দামের প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি, ট্যানারি ও আড়ত পর্যায়ে কম।
চট্টগ্রামের পুরনো চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর ঈদের সময় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বেঁধে বাজারে নামেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দামের ধাক্কায় অনেকেই লোকসানের বোঝা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। ফলে জাতীয় সম্পদ হিসেবে পরিচিত কোরবানির চামড়ার বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
দেশবার্তা/এএ/এসবি