জ্যৈষ্ঠের শেষ সপ্তাহে এসে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বৃষ্টিপাত মূলত বর্ষার আগমনী বার্তা। এর মাধ্যমে দেশে কার্যত বর্ষাকালের সূচনা হলো।
বুধবার রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির।
তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আসা মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ইতিমধ্যেই বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে এবং এসব এলাকায় কার্যত বর্ষা এসে পড়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এই মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের বাকি অংশেও বিস্তার লাভ করার জন্য অনুকূল অবস্থায় রয়েছে।
এই আবহাওয়াবিদ আরও জানান, মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে গত সোমবার পর্যন্ত যে টানা তীব্র তাপপ্রবাহ চলছিল, এই বৃষ্টির কারণে তার অবসান হয়েছে। বৃষ্টি যতদিন চলবে, ততদিন গরমের তীব্রতা কিছুটা কম থাকবে। তবে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় বৃষ্টি থামলে কখনো কখনো অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ (বুধবার) দুপুরে ঢাকায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগে সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই একই সময়ে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় দেশের সর্বোচ্চ ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আজ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সাথে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি এবং দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
তবে এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
দেশবার্তা/একে