ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দরিদ্র দেশগুলোর লাখো মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ-এর বরাত দিয়ে এই উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
কার্ল স্কাউ জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে জাতিসংঘের এই সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার খরচ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দামও চড়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ার কারণে সুদানের মতো দেশগুলোতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
খাদ্য সংকটের এই নতুন চাপগুলো এমন এক সময়ে আসছে যখন ডব্লিউএফপি নিজেই গুরুতর অর্থসংকটে ভুগছে। সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে স্কাউ বলেন, অনেক জায়গায় বাধ্য হয়ে আমরা এর মধ্যেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে খাবার নিয়ে আরও বেশি অনাহারগ্রস্তদের মুখে তুলে দিচ্ছি।
সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল এই সংস্থাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থায়ন হ্রাসের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ডব্লিউএফপির সবচেয়ে বড় দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। যেখানে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন ছিল ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, সেখানে ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৩১ মিলিয়ন ডলারে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে স্কাউ আরও বলেন, বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোতে খাদ্যের দাম যদি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে সেখানকার মানুষ বাধ্য হয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম খাবার গ্রহণ করে।
এর আগে গত মার্চ মাসে এক সতর্কবার্তায় ডব্লিউএফপি জানিয়েছিল যে, যদি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে নতুন করে আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে।
স্কাউর মতে, এই সংকটের নেতিবাচক প্রভাব এর মধ্যেই শ্রীলংকা, সোমালিয়া এবং আফগানিস্তানে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি হরমুজ প্রণালি আগামীকালই খুলে দেওয়া হয়, তবুও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগবে। আগের অবস্থা পুনরুদ্ধারে সময়ের প্রয়োজন।
তবে চলমান এই সংঘাতের অবসান এবং প্রণালিটি দ্রুত খুলে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে স্কাউ বলেন, এটা স্পষ্ট যে এই সংকটের ধাক্কা সামলাতে এবং বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের রক্ষা করতে ধনী দেশগুলোকেও দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে।
দেশবার্তা/একে