মানব চিত্তে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্য করার ক্ষমতা বিবেক মনুষ্যত্ব আজ কফিনে বন্দি! স্বার্থের কাছে লজ্জা আর অন্তর চক্ষুর বিবেকের মাপকাঠি আজ বিকলাঙ্গ। মানুষের আচরণ কেনো যেনো দিন দিন হিংস্র হায়েনার মতো হয়ে যাচ্ছে। ভালো কাজের প্রতি গুরুজনদের প্রতি সম্মান শ্রদ্ধা দিন দিন নির্বাসনে যাচ্ছে। বর্তমান প্রজম্ম যেনো তালমাতাল হয়ে নিয়ম শৃঙ্খল ভেঙ্গে রঙ্গীন স্বপ্নের ভাবনায় উত্তাল হাওয়ায় বইছে। এর মাঝে ৯০% ছাত্র ছাত্রীদের বাবা মা তার সন্তানকে উপযুক্ত দিন নির্দেশনা দিয়েও সন্তানকে নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না।
আদর্শ আর সুশিক্ষায় গড়ে উঠার বড় বিশ্ববিদ্যালয় হলো নিজ পরিবার। যখন শিক্ষকরা কড়া শাসন আর বের্তাঘাত করলে-যেখানে এখন শিক্ষকদের চাকরি থাকে না, সেখানে খুব ভালো আর্দশবান, নৈতিক মানুষ ভবিষ্যৎ প্রজম্ম গড়ে উঠবে আশা করা যায় না। যে দিন থেকে বেতদিয়ে শাসন করা নিষিদ্ধ হয়েছে সে দিন থেকেই নতুন নতুন বেয়াদবের জম্ম হয়েছে। এখন দেখতে পাই শিক্ষক ছাত্র গলা ধরে হাটে বন্ধুত্ব ভেবে বিড়িও টানে, উত্তাল নৃত্যে মত্ত হয় সত্যি এটাই মনে হয় লজ্জার মহামারী। অনেক শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতা নাই, মনুষ্যত্ব বিবেক লজ্জা ও নাই, কাউকে সম্মান করার ইচ্ছা ও নাই।
পরীক্ষার পরে একজন শিক্ষামন্ত্রীকে যে ভাবে মিলন, মিলইন্না-মিলন করবো নগ্নবাচনভঙ্গী দিয়ে আংকেল বলে, তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না এদশের শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার কতটুকু অধঃপতন হয়েছে? আমরা অভিবাবকরা যদি এ প্রজম্মকে সঠিক পথের আলো দেখাতে না পারি নিশ্চত পরবর্তীতে আরো ভয়ংকর প্রজম্মের করুন জীবন যাত্রার শেষ দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের। দিন দিন শিক্ষার হার বাড়ছে নতুন প্রজম্ম অতি উচ্চশিক্ষিত হতে গিয়ে আমরা দিন দিন আরো বিবেক বর্জিত মনুষ্যত্বহীন অমানুষ হয়ে যাচ্ছি! আমরা শিক্ষিত হচ্ছি কিন্ত মানুষ হচ্ছিনা। এখানে শিক্ষার দোষ নয়, শিক্ষা পাঠের সিষ্টেমের বড় একটি ক্রটি আছে বলে মনে হয়।
উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মনুষ্যত্ববোধটা সর্ব শ্রেণীর মানুষের শিক্ষা গ্রহন করা উচিত। পারিবারিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষাকে শতভাগ কাজে লাগাতে পারলে প্রকৃত সুশিক্ষিত সভ্য মানুষ হিসাবে গড়ে উঠা সম্ভব। মনের ভিতরের পশুত্বকে বাদ দিয়ে মানব মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করতে হবে। ভন্ডমুখোশধারী অন্তর দুর্গন্ধে ভরা জ্ঞানপাপী শিক্ষিতের চেয়ে অর্ধশিক্ষিত সাদা মনের মানুষগুলোই ভালো। আজ খোজ নিয়ে দেখা যায় বৃদ্ধাশ্রমে উচ্চশিক্ষিত অঢেল টাকার মালিকের পিতা মাতা থাকে ঐ নির্জন পল্লীতে। ভাবতে কষ্ট হয় লজ্জায় ম্লান হয়ে যাই দীর্ঘশ্বাস আসে বাতাশ ভারী হয় যখন দেখি মেয়ে উচ্চশিক্ষিত আমেরিকা প্রবাসী, বড়ছেলে বিসিএস করা সচিব, ছোট ছেলে উইং কমান্ডার আরেক ছেলে উচ্চশিক্ষিত অষ্ট্রেলিায় প্রবাসী অথচ পিতার আশ্রয় স্থান হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। দুচোখে বেদনায় জন টলমল করে অতিতের ভাবনায় আসে শুধুই দীর্ঘশ্বাস। অথচ সারাদেশে খুজলে একজন ও দিন মজুরের সন্তানের পিতা মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাওয়া যাবে না। যদি আপনি ভুল পথে হাটেন অবৈধ অর্থউপার্জন আর কারো দীর্ঘশ্বাসের টাকায় সন্তানকে মুখোশধারী মানুষ বানান।
আর যদি সঠিক সত্যের সাধনায় নিজ সন্তানকে পরিচর্যা করতে না পারেন তবে এই সন্তান কখনোই আপনার ইহকাল ও পরকালে আপনার কোন উপকারেই আসবে না। নিকৃষ্ট নিলজ্জ দুর্নীতিপরায়ন আর বেহায়াপনা কাজকে অনেকে এগুলোকে লজ্জাই মনে করে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিলজ্জা এতটা বেড়েছে এটা যেন লজ্জার মহামারী। ঘরে স্বামী থাকা অবস্থায় প্রেমিকাকে এনে পরকীয় সমাজের লোকের কাছে হাতে নাতে ধরা পড়ে ও অনুতপ্ত হয় না। উল্টো দাবি করে একই সাথে স্বামী নিয়ে সংসার করবে, কতটা নৈতিক অধঃপতন আর লজ্জার মহামারী ঘটলে এ নিলজ্জ কথা বলতে পারে? ভাবতে কষ্ট হয় কোন আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে প্রবেশ করলাম? নিলজ্জ, সমাজবিরোধী ধর্মবিরোধী বেফাস কথা এ গুলো এ সমাজের নৈতিকতা সর্ম্পকে বিশ্বাস আর মূল্যবোধের উপর সরাসরি আঘাত।
স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর এসে ও দেখতে হয় উচ্চশিক্ষিত সচিব, শিক্ষক কানাডা প্রবাসী ছেলে সন্তানের মা নির্জ্জন ঘরে মরে ৭ দিন ধরে পচেঁ পোকায় ধরেছে, মানবতা, বিবেক, মনুষ্যত্ব, শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্ববোধ আজ কোথায়? সন্তানদেরকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানানো প্রয়োজন ধর্মীয় শিক্ষা আর পারিবারিক সুশিক্ষার আর্দশে সন্তানদেরকে গড়ে তুলতে না পারলে প্রত্যেক বাবা মাকে কঠিন ও করুন পরিনতি ভোগ করতে হবে। আমাদের ধর্মীয় শিক্ষাকে অবজ্ঞা করে যারা পশ্চিমা শিক্ষা সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে বড় হচ্ছে খোজ নিয়ে দেখুন তারা জ্ঞানপাপী, তাদের সংসার জীবন বিষের মত তিতা ও নরকের মত অশান্তিতে ভরে আছে। টাকা জীবনে প্রয়োজন আছ কিন্ত টাকাই যে সমস্ত সুখ শান্তি চিত্তে প্রশান্তি দিবে এটা কেই গ্যারন্টি দিতে পারবে না।
রাষ্ট্র সমাজ ও ব্যক্তিগত জীবনে শান্তি নৈতিকতা আর শৃঙ্খলাবোধ জীবনের জন্য ধর্মীয় শিক্ষায় কোন বিকল্প নাই। ধর্ম মানুষকে আলোকিত জীবন গড়ার শুধু জ্ঞানই দেয না, ইহকাল ও পরকালের মুক্তি পথ দেখায়। ধর্মীয় ও পারিবারিক শিক্ষর ফলে ব্যক্তি জীবনে মানবতাবোধ জাগ্রত হয়। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব অথচ আজ আমাদের আচরণ নীতি নৈতিকতা মানবতা লজ্জা সামাজিক আদর্শ দেখে বন্য পশুরাও হাসে আমাদের আচরন দেখে ওরা ও লজ্জা পায়। আমাদের সমাজে যে ভাবে নৈতিক অবক্ষয় অগ্রসর হচ্চে গোটা সমাজের চেহারাকে ক্যান্সারের মত পচন ধরিয়ে দিবে। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিতে আমাদের বড় হতে হবে ধর্মীয় শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নীতিহীন মনুষত্ব চিত্তে জীবন কখনোই আদর্শ জীবন হতে পারে না।
সমাজের মানুষ আজ এতটা স্বার্থপরতা আর আত্নকেন্দ্রিক হয়ে গেছে পরকালের কথা তো ভাবনাই আসে না। এখন সত্যকে সত্য বলে না মিথ্যাকে মিথ্যা বলে না এ কোন মধ্যযুগের বর্বরতায় বসবাস করছি আমরা? সত্যকে সত্য বলে চিনতে পারা মিথ্যাকে মিথ্যা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়াই হলো নৈতিক মূল্যবোধের ফল। দিন দিন আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দুর্নীতি অনুপ্রবেশ করছে তাই মূল্যবোধের ক্ষেত্রে আশংঙ্খাজনক হারে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায় থেকে ফুটপাত পর্যন্ত দুর্নীতি কোন ভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না।
জীবনের প্রতিক্ষেত্রে দুর্নীতি আর পেশী শক্তির রাম রাজত্ব কায়েম করছে। নীতি ভ্রষ্ট মানুষ গুলোই আজ উচ্চ কন্ঠে নীতি আদর্শের কথা বলে সমাজে দাপিয়ে বেড়ায় এরা হায়েনা পশুর চেয়ে ও নিকৃষ্ট। তাই সমাজের বিবিকবান ইজ্জত ওয়ালা লোক জ্ঞানী নম্র ভদ্র বিনয়ী লোকেরা ওদেরকে ভয় পায়। সমাজে নিলজ্জতার সংখ্যা এত বেড়ে গেছে ওরা দুর্নীতির মাধ্যমে বিত্তশালী হয়ে নিজেকে সংকোচবোধ করছে না। বরং ওরাই সমাজের বিভিন্ন কমিটির বড় বড় পদ গুলো দখল করে নেয়।
সমাজে এখন প্রায় শিক্ষাঙ্গন থেকেই দুর্নীতির বীজ বপন করা হয়! রাজনীতির ছত্রছায়ায় থেকে অনার্স মাষ্টার্স পাস করতেই তাদের সময় লাগে ২০ বছর এরাই শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস দুর্নীতি অনিয়ম সৃষ্টি করে। এই আদু ভাই ছাত্ররা রাষ্ট্র সমাজকে দুর্নীতি ছাড়া, সমাজের অধঃপতন ছাড়া কি উপহার দিবে?
যে সমাজ ও রাষ্ট্রের জনগনের নৈতিক মূল্যবোধের অভাব ঐ জাতি খুব দ্রুত রাষ্ট্রীয় চরম সংকট ও চরম হতাশায় পতিত হবে। মানুষ নিস্পাপ হয়ে পৃথিবীতে আসে, পরিবার সমাজ ব্যবস্থাপনা রাষ্টীয় কার্যকলাপ যেভাবে দেখে ঐ ভাবেই শিক্ষা আদর্শ গ্রহন করে, বড় হয় এটাই তার জীবনে আদর্শ হয়ে যায়। সমাজ ও সংসার জীবনে যখন অর্থনৈতিক সংকট দেখ দেয় দরিদ্রতা অভাব যখন চরম সীমায় পৌছায় তখন আমাদের অনেকেরই নৈতিকতার অধঃপতন ঘটে। উচ্চ বিত্তরা উচ্চ শিক্ষা লাভ করেছে ঠিকই কিন্ত তাদের মধ্যে বড় ধরনের অপরাধ, নিকৃষ্টতম কাজ এবং বিবেক বর্জিত কাজ গুলোই তারা বেশী করে তাদের মাঝে দিন দিন মনুষ্যত্ব আর লজ্জা হ্রাস পাচ্ছে যা সভ্য সমাজের জন্য অসনী সংকেত। এখন নৈতিকতা বিরোধী কার্যকলাপ ব্যাঙের ছাতার মত চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে কেউ কাউকে মানছে না। জবাব দিহিতার কোন স্থান নেই।
সমাজে রাজনীতির আশ্রয়ে কিছু সন্ত্রাসী কার্যকলাপ অর্থলোভী যুবসমাজকে মরিচিকা ও মিথ্যা আশ্বাসের পিছনে ছুটে পথ ভ্রষ্ট হয়ে নৈতিক অধঃপতনের দিকে নিয়ে যায়, যা সমাজের জন্য কখনোই শুভলক্ষণ নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও ভার্চুয়াল জগৎ যুব সমাজকে রঙ্গিন স্বপ্নের দিকে হাত ছানি দেয়। পারিবারিক কঠোর শিক্ষার অভাবে স্বপ্নের ফুলের বাগান হায়েনার হাতে ধ্বংস হয়ে যায়। আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে প্রত্যেক পরিবার থেকে সন্তানদেরকে দেশ প্রেমে উদ্বদ্ধ করতে হবে। নৈতিকতা মানবতাবোধ ধর্মীয় শিক্ষায় শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে হবে। সভ্যসমাজ গঠনে ব্যর্থ হলে সেটা হবে লজ্জার মহামারী তখন জীবন যাত্রায় নৈতিক অধঃপতন অনিবার্য।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিষ্ট, নাট্যাকার শাহীন মির্জা।