আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড (দ্বিতীয় হলুদ কার্ড) দেখা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে বেশ আলোচনা চলছে। মূলত ফিফার নতুন প্রবর্তিত একটি নিয়মের মারপ্যাঁচেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে এই সুইস তারকাকে।
ফিফার নতুন এই আইনের নাম ‘মিসটেইকেন আইডেন্টিটি রুল’ (Mistaken Identity Rule)। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি ফাউলের শিকার হয়েছেন দাবি করে প্রতিপক্ষের কারও বিরুদ্ধে হলুদ বা লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত আদায় করেন, কিন্তু পরবর্তীতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) রিভিউতে দেখা যায় ফাউলটি আসলে সাজানো বা প্রতিপক্ষ কোনো অপরাধই করেনি; তবে রেফারি তার আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন।
সুইজারল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচে ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছে। আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের চ্যালেঞ্জে এমবোলো মাটিতে পড়ে গেলে রেফারি প্রথমে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন। কিন্তু পরে ভিএআর (VAR) রিভিউতে দেখা যায়, পারেদেস ফাউল করেননি, বরং এমবোলো ফাউল আদায় করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ডাইভ দিয়েছেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী রেফারি তখন পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করেন। বিপরীতে, ডাইভ দেওয়া বা ফুটবলের পরিভাষায় ‘সিমুলেশন’-এর অপরাধে উল্টো এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখান। আগে থেকেই একটি হলুদ কার্ড থাকায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের খড়্গে মাঠ ছাড়তে হয় এই সুইস ফরোয়ার্ডকে। অর্থাৎ, পারেদেসের কার্ডটি বাতিল না হলে এমবোলোকে এই শাস্তির মুখে পড়তে হতো না।
চলতি বিশ্বকাপে অবশ্য এই নিয়মের প্রয়োগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে ম্যাচেও এই আইনের ব্যবহার দেখা গেছে। ওই ম্যাচে প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরনকে যুক্তরাষ্ট্রের টিম রিম ফাউল করেছেন ভেবে রেফারি রিমকে হলুদ কার্ড দিয়েছিলেন। পরে ভিএআর রিভিউতে দেখা যায় আলমিরন আসলে ডাইভ দিয়েছিলেন। ফলে টিম রিমের কার্ড প্রত্যাহার করে উল্টো আলমিরনকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
সাধারণত ডাইভ দেওয়া বা সিমুলেশনের ক্ষেত্রে রেফারিরা হলুদ কার্ড দেখিয়ে থাকেন। তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিবারই হলুদ কার্ড দেখাতেই হবে, এমন কোনো বাধাধরা নিয়ম নেই; এটি মূলত রেফারির তাৎক্ষণিক বিবেচনার ওপর নির্ভর করে। তবে নতুন নিয়ম আসায় এখন আর রেফারিকে বোকা বানিয়ে ফাউল আদায়ের সুযোগ থাকছে না খেলোয়াড়দের সামনে।
দেশবার্তা/একে