ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  শনিবার | ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০:৩৯
চলমান বার্তা:
প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের নতুন মুখ রিয়া: কে এই তরুণী?
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১৬:৫৭ আপডেট: ২৪.০৭.২০২৬ ২০:১৫  (ভিজিটর : )
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আকস্মিক এক ঘটনার মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছেন মুম্বাইয়ের ২৭ বছর বয়সী মডেল ও মঞ্চশিল্পী রিয়া আহির। সর্বভারতীয় বিতর্কিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্ন ফাঁস এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার নানা অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভে তিনি দেখিয়েছেন অভূতপূর্ব সাহসিকতা। সহ-আন্দোলনকারীদের রক্ষায় সরাসরি পুলিশের গাড়ি আটকে দাঁড়িয়ে পড়েন এই তরুণী, যার ভিডিও এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে নেটিজেনদের ওয়ালে ওয়ালে।

সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল?

মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে শিক্ষার্থীরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাজমান নানা অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে সমবেত হয়েছিলেন। আন্দোলন দমনে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে এবং বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে—যাদের মধ্যে নারীরাও ছিলেন—আটক করে পুলিশের একটি ভ্যানে তোলে।

ঘটনাচক্রে সেখানে থাকা রিয়া আহির ভ্যানে আটকে পড়া আন্দোলনকারীদের কাউকেই ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না। তবে সেখানে ভিড় ও তাড়াহুড়ো করে মানুষ তোলার দৃশ্য দেখে তিনি নিজেকে সামলাতে পারেননি। 

তিনি জানান, পুলিশের গাড়িতে এক নারীকে গাদাগাদি করে তোলা দেখে তিনি তাকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাতে বাধা দিলে, রিয়া সরাসরি গিয়ে ভ্যানটির গতিপথ রোধ করে দাঁড়ান এবং আটকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।

ভয়ের কাছে অনমনীয় মনোভাব

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, রিয়া অনড় ভঙ্গিতে পুলিশ ভ্যানের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাকে হঠাতে চালক কয়েকবার বিকট শব্দে ইঞ্জিন সচল করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করলেও তিনি এক চুলও সরেননি। তার এই আত্মবিশ্বাস দেখে মুহূর্তের মধ্যে অন্যান্য আন্দোলনকারীরাও এসে তার পাশে জোট বাঁধেন। পরিশেষে, তীব্র প্রতিবাদের মুখে বাধ্য হয়ে পুলিশ শিবাজি পার্ক এলাকাতেই আটকদের ছেড়ে দেয়।

প্রথম রাজপথ, প্রথম অনুঘটক

জীবনে এবারই প্রথম কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন রিয়া। ২১ জুলাই শিবাজি পার্কে প্রথমবার গিয়ে দেখেন, তার পৌঁছানোর আগেই পুলিশ শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশকে ধরে নিয়ে গেছে। পরদিন ২২ জুলাই তিনি আবারও সেখানে উপস্থিত হন, আর সেদিনই ঘটে সেই স্মরণীয় ঘটনা। 

রিয়া বলেন, ‘কোনো আগাম পরিকল্পনা ছিল না। পরিস্থিতি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে যা সঠিক মনে হয়েছে, তা-ই করেছি। কখনও ভাবিনি এটি আমাকে এভাবে চেনা মুখ বানিয়ে দেবে।’

সাহসের উৎস ও ব্যক্তিগত জীবন

পরিবারের সামরিক পটভূমিই তার এই নির্ভীকতার মূল শক্তি বলে জানান রিয়া। তার বাবা কর্মরত ছিলেন ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশে (ITBP)। পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রিয়ার মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এই তাড়না তার রক্তের সঙ্গেই মিশে আছে।

মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও কাজের চাপে স্নাতক শেষ করতে পারেননি রিয়া। বর্তমানে তিনি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা প্রোগ্রামের আওতায় ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করছেন। তবে নিজের শিক্ষাজীবনেও তাকে প্রশাসনিক জটিলতা ও উদাসীনতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ফলে এই আন্দোলনকে তিনি কেবল একটি ভর্তি পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো ব্যবস্থার সংস্কারের লড়াই হিসেবে দেখছেন।

অভিনয় ও ফ্যাশন জগতে রিয়ার পদচারণা দীর্ঘদিনের। গত ১৩ বছর ধরে তিনি নিয়মিত হিন্দি থিয়েটারে কাজ করছেন, পাশাপাশি জড়িয়ে আছেন মডেলিংয়ে। এছাড়া স্থানীয় কারিগরদের উৎপাদিত পণ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে গত বছর ‘রিয়াসত’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেন তিনি। 

মূলত আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘প্রাডা’-র কোলাপুরি চপ্পলের নকশা বিতর্ক নিয়ে সচেতনতা তৈরি হতেই এই উদ্যোগ নেন তিনি।

হঠাৎ পাওয়া এই পরিচিতি নিয়ে রিয়ার বাবা-মা অত্যন্ত গর্বিত। নিজের বিশ্বাসে অটল থেকে রাজপথে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার এই ঘটনা তাকে এনে দিয়েছে দেশজুড়ে প্রশংসা।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।