ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ২১:১০
চলমান বার্তা:
২০২৬-২৭ অর্থবছর
৬৩.৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা সরকারের
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১৭:২৭ আপডেট: ২৬.০৭.২০২৬ ১৯:৩৮  (ভিজিটর : )
ছবি: পিআইডি

ছবি: পিআইডি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পণ্য ও সেবা খাতে মোট ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৬ হাজার ৩৪০ কোটি) মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বিদায়ী অর্থবছরের প্রকৃত আয়ের ওপর ভিত্তি করে এবার ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশা করা হচ্ছে।

নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পণ্য খাত থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন (৫ হাজার ৫২০ কোটি) ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন (৮২০ কোটি) ডলার আয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ সংক্রান্ত সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে মোট ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য থাকলেও বছর শেষে অর্জিত হয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার (পণ্য ৪৮ বিলিয়ন ও সেবা ৭ বিলিয়ন ডলার)। 

লক্ষ্য পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও কেন লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ, সহজে ব্যবসা পরিচালনা (ইজ অব ডুইং বিজনেস) নিশ্চিতকরণ এবং একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে। ফলে আগামী দিনে রপ্তানিতে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ এবং উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ার মতো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকার রপ্তানিমুখী খাতকে উৎসাহিত করতে বাজেটে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া জটিলতামুক্ত করা হচ্ছে, যা খুব দ্রুত রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা বাড়াতে রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ আসছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। 

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪-৫টি দেশের সঙ্গে আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকার। পাশাপাশি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গেও এফটিএ আলোচনার প্রস্তুতি চলছে এবং উভয় পক্ষ ইতিমধ্যে আলোচক দল গঠন করেছে।

মার্কিন শুল্ক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে, যা নতুন কোনো অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে না।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির স্পষ্ট করেন, মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রথমে ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক ঘোষণা করা হলেও পরে তা কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয় এবং পরবর্তীতে মার্কিন উচ্চ আদালতের রায়ে সেটি বাতিল হয়। 

এরপর সেকশন ১২২-এর অধীনে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্কের আইনি ক্ষমতা থাকলেও সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সেকশন ৩০১-এর আওতায় শ্রম ইস্যুতে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। যা মূলত আগের কর হারেরই একটি আইনি রূপান্তর।

বাণিজ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে রপ্তানি খাতে যে স্থবিরতা বা মন্দাভাব বিরাজ করছে, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে আগামী অর্থবছরেই সেই অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব হবে।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।