আজ বৃহস্পিতবার থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সারা দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের সাড়ে ১২ লাখ শিক্ষার্থী চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। কোভিড ও ডেঙ্গুর চোখ রাঙানিকে উপেকত্ষা করে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে পৌঁছেছেন। সারা দেশে মোট ৯ হাজার ৩১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২ হাজার ৭৯৭ কেন্দ্রে এবার পরীক্ষা হচ্ছে।
আজ সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে এ পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
২০২৩ সালের সংক্ষিপ্ত বা পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা হচ্ছে। সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বরে ও পূর্ণ সময়ে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে বলে আগেই জানিয়েছিল শিক্ষা বোর্ডগুলো।
পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বলা হয়েছিল। সে কারণে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় লেগে যায়। যানজটের বিপদ এড়াতে অনেকেই বেশ খানিকটা সময় হাতে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসেন।
অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের পরে কেন্দ্রে প্রবেশ করলে নাম, রোল, প্রবেশের সময় ও বিলম্বের কারণ লিপিবদ্ধ করে এসব পরীক্ষার্থীর তালিকা প্রতিদিন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে জানাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোনো কক্ষে পরীক্ষা বিলম্বে শুরু হলে যত মিনিট পরে পরীক্ষা শুরু হবে পরীক্ষার্থীদের ততটুকু সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
সিদ্বেশরী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকেই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে আসতে থাকেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাড়ে ৯টা থেকে তারা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।
একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীঅর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে। সেখানে সকাল সাড়ে আটটার আগেই পরীক্ষাথীরা কেন্দ্রের সামনে ভিড় করেন। ৯টার দিকে কেন্দ্রের ফটক খুলে দিলে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।
কোভিড ও ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের নির্দেশনা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরীক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ সংক্রামণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রের প্রবেশ পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে বলা হয়েছে।
ডেঙ্গুরোধে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কেন্দ্র সবার স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৫২০ জন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমান পরীক্ষায় বসছে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের চেয়ে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ৮১ হাজার ৮৮২ জন।
এবারের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র ও ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় বসবে ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় বসবে ৮৬ হাজার ১০২ জন শিক্ষার্থী।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন পরীক্ষার্থী।
নয়টি সাধারণ ও মাদ্রাসা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১০ অগাস্ট। ১১ থেকে ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।
আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ভোকেশনাল ও ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত।