ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  শুক্রবার | ১ মে ২০২৬ | ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯:৩৭
চলমান বার্তা:
রাঙামাটিতে সংরক্ষিত বনে বাঁশের উৎপাদন কমছে
জাহেদা বেগম, রাঙামাটি
প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:৩৫ আপডেট: ০৪.১০.২০২৫ ১৬:৪৬  (ভিজিটর : )

রাঙামাটিতে কাঠ, মাছের পর সবচেয়ে বড় ব্যবসা ধরা হয় ‘বাঁশ’ ব্যবসাকে। প্রতিবছর এ অঞ্চলে শত কোটি টাকার উপর বাঁশের ব্যবসা করে ব্যবসায়ীরা এবং এ ব্যবসা থেকে সরকার কয়েককোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে। তবে বাঁশকে কেন্দ্র করে সুপরিকল্পনা প্রণয়ণ করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে ‘বাঁশ’। 

পাহাড়ে প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠে বাঁশ। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে বাঁশের বেশি উৎপাদন বেশি হয়ে থাকে। এ উপজেলার কাচালং, শিজক এবং নাড়াইছড়ি সংরক্ষিত বন থেকে বাঁশ আহরন হয় বেশি। এরপর কাউখালী এবং নানিয়ারচর উপজেলা থেকে বাঁশ আহরণ করা হয়। এ তিন উপজেলা থেকে এক কোটি ৮০ হাজার বাঁশ আহরণ করা হয় বলে জানা গেছে। 

এ ছাড়া জেলার বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, রাজস্থলী, রাঙামাটি সদর, কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাঁশ উৎপাদন হয়। এসব উপজেলা থেকে প্রতিবছর দুই কোটির চেয়ে বেশি বাঁশ আহরণ করা হয়ে থাকে। তবে অতীতে এসব উপজেলা থেকে তিন কোটি বাঁশ আহরণ করা হতো। 

সারাদেশে বাঁশের কদর রয়েছে এবং দিনদিন চাহিদাও বাড়ছে। রাঙামাটির সংরক্ষিত বনে বাঁশের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। বন কমে যাওয়ায় বাঁশের উৎপাদন কম হচ্ছে। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে বাঁশ বাগানে উৎপাদন বাড়ছে। 

রাঙামাটি বন বিভাগ থেকে জানা গেছে, গত অর্থ বছরে সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং সৃজন করা বাঁশ বাগান থেকে ৮০কোটি টাকার বাঁশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছে ওই মৌসুমে শত কোটি টাকার উপর বাঁশের বাণিজ্য হয়েছে। 

সূত্রটি বলছে, গত ২০২২-২৩ অর্থ বছরে বন বিভাগের জুম নিয়ন্ত্রণ,অশ্রেণীভুক্ত বনাঞ্চল, উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগ থেকে এক কোটি ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৪৫৭টি বাঁশ আহরণ করা হয়েছে। উৎপাদিত বাঁশের মধ্যে রয়েছে মুলি, ওরা, মিতিঙ্গা, ডুলু, ফারুয়া ও বাইজ্জা। এখানে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় মুলি বাঁশ। প্রতি বাঁশ থেকে এক টাকা ৪০ পয়সা করে রাজস্ব আদায় করে বন বিভাগ 

জেলা সদরের কুতুকছড়ি ইউনিয়নের কুতুকছড়ি বাজারে সবচেয়ে বাঁশের বড় হাট বসে। জেলা সদর উপজেলার কুতুকছড়ি এলাকা, নানিয়ারচর উপজেলার বগাছড়ি, সাবেক্ষ্যং ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা বন থেকে বাঁশ কেটে কুতুকছড়ি হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। সেখানে প্রতিটি হাটে বাঁশ আকারভেদে ১৫ থেকে ২০০টাকা বিক্রি হয়।

প্রতিদিন বাঁশ ভর্তি কয়েকটি ট্রাক দেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় নেওয়া হয়। এ হাট থেকে প্রতি মৌসুমে অর্ধকোটি টাকার বাঁশের বাণিজ্য হয়ে থাকে। 

কুতুকছড়ি হাটে বাঁশ বিক্রি করতে আসা নির্মল চাকমা বলেন, নিজের বাগান এবং বনাঞ্চল থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে হাটে নিয়ে এসেছি। বাঁশের জাত ভেদে ভিন্ন ভিন্ন দাম। কোনটি প্রতি পিস ২০ টাকা আবার কোনটি ২০০ টাকায়ও বিক্রি করা হয়। আগে বাঁশের দাম ভাল পেলেও বর্তমানে ন্যার্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।

একই হাটের আরেক ব্যবসায়ী বিজয় মারমা বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঁশের বাগান মালিকরা এ হাটে বাঁশ নিয়ে আসে। আমরা এসব বাঁশ ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করি। 

তিনি আরও বলেন, মানুষের উন্নত জীবনে কংক্রিটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো বাঁশের রাজকীয় বাণিজ্য হারিয়ে গেছে। 

রাঙামাটিতে প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠা বাঁশের উপর নির্ভর করে ১৯৫৩সালে কাপ্তাই উপজেলায় এশিয়ার বৃহত্তর কাগজ কল ‘কর্ণফুলী পেপার মিল’ গড়ে উঠেছিলো। কর্ণফুলী কাগজ কলের চাহিদা মেঠাতো এখানে উৎপাদিত বাঁশ। তবে কাগজ উৎপাদন বন্ধ থাকায় বাঁশের চাহিদা ও দাম কিছুটা কমেছে। 

বাঁশের বাণিজ্য বর্তমানে একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে পরিচিত। বাঁশ ও বাঁশজাত পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারজাতকরণে অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের হস্তশল্প, নির্মাণ সামগ্রী, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তৈরিতে বাঁশের ব্যবহার ব্যাপক। 

এছাড়াও, বাঁশ একটি পরিবেশ-বান্ধব উপাদান হওয়ায় এর বাণিজ্যিক গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। চীন ও থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে বাঁশের পণ্য ও সামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেড় শতাব্দি ধরে জাতীয় চাহিদা পূরণে পাহাড়ের বাঁশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বাঁশ শিল্পের জন্য এখানে কোন শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠেনি। সেইজন্য শিল্পকারখানা স্থাপন এবং বাঁশের নানাবিধ চাহিদা বাড়াতে হবে। তবেই বৈদশিক মুদ্রা অর্জনে বাঁশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

রাঙামাটি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সহকারী ব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, এখানে অনেক যন্ত্রপাতি নিয়ে আসতে হবে। বাঁশটাকে যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি তাহলে এখানে স্থানীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধশালী হবে, নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে। এইজন্য সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্প প্রণয়ন করে বাঁশ শিল্পের প্রসার ঘটানো সম্ভব বলে যোগ করেন বেসিক কর্মকর্তা। 

প্রতিনিধি/একে


মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
৯ মে লন্ডন যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
৯ মে লন্ডন যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
রাত ৯টার মধ্যে ৫ বিভাগে কালবৈশাখীর শঙ্কা
রাত ৯টার মধ্যে ৫ বিভাগে কালবৈশাখীর শঙ্কা
শ্রমিক দিবসে নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে বিএনপি
শ্রমিক দিবসে নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে বিএনপি
৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেফতার ইমির জামিন
৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেফতার ইমির জামিন
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg