বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও প্রতিটি পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার। সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মাথায় এই কার্যক্রম শুরু করে প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে কিছু প্রভাব পড়তে পারে। সমুদ্রপথ বন্ধ হলে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে। তবে এর প্রভাব এখনই পড়ার সম্ভাবনা নেই, তাই বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিরও কোনো আশঙ্কা নেই।
তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সজাগ রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ডগুলো মূলত গৃহবধূদের নামেই ইস্যু করা হচ্ছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, নারীরাই জানেন সংসারের কোন জিনিসটি বেশি প্রয়োজন এবং তাঁরাই খরচ বাঁচিয়ে সঞ্চয় করতে পারেন। কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা উপকারভোগীরা পছন্দ অনুযায়ী বিকাশ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাবেন। এটি পারিবারিক ভিত্তি আরও দৃঢ় করবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, উপকারভোগী নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। সরকারি জরিপ ও তথ্যের ভিত্তিতে পিএমটি (PMT) স্কোরের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই তালিকা করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অনেক জায়গায় উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়লেও সিলেট কিছুটা পিছিয়ে আছে। নিচু জমি হওয়ার কারণে বছরে অনেকটা সময় পানি জমে থাকে। আমরা যদি পানি নিষ্কাশন ও শুকনো মৌসুমে সেচের সুবিধা নিশ্চিত করতে পারি, তবে এই অঞ্চলে আরেকটি বাড়তি ফসল ফলানো সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের বিষয়েও মন্ত্রী পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পাইলট প্রকল্প হিসেবে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের আকিল শাহ, রাধানগর ও উত্তর সূরিয়ারপাড় গ্রামকে নির্বাচন করা হয়েছে। এই তিন গ্রামের ৬৯৭টি পরিবারের মাঝে প্রাথমিকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/একে