পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হলেও ঈদের আমেজ এখনো শেষ হয়নি। প্রতিদিন রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের আগমন ঘটছে। তবে সারাদেশের মতো রাঙামাটিতেও তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকটের কারণে আগত পর্যটকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এ কারণে চলতি মৌসুমে পার্বত্য এ জেলায় যে পরিমাণ পর্যটক আসার কথা ছিল, তেল সংকটের কারণে আশানুরূপ পর্যটকের সমাগম হয়নি।
রোববার জেলার কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য ভিড় হচ্ছে। কেউ তেল পেয়ে খুশি, আবার কেউ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। এটি এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ছোট গাড়ি (কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল) নিয়ে আসা পর্যটকরা তেলের সংকটের কারণে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। যারা আসছেন, তারা তেল সংকটে পড়ে চরম বিপাকে পড়ছেন। বেড়ানোর চেয়ে তেলের অপেক্ষায় সময় কাটাতে হচ্ছে তাদের।
রাঙামাটি শহরে বেড়াতে আসা পর্যটক সুজন আহমেদ বলেন, মোটরসাইকেলে নতুন বউকে নিয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে রাঙামাটিতে ঘুরতে এসে বিপদে পড়েছি। তেল না পেয়ে কোথাও ঘুরতে পারছি না। পাম্পগুলোতে দাঁড়িয়ে তেলও নিতে পারিনি।
পর্যটক আনিস মাহমুদ বলেন, ঢাকা থেকে প্রাইভেট কারে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে এখানে কষ্টে পড়েছি। কোথাও তেল পাচ্ছি না।
এদিকে জেলার পর্যটন নগরী সাজেকেও পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। তবে সেখানে তেলের সংকটের কারণে আশানুরূপ পর্যটক আসতে পারছেন না।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, সাজেকে গত এক সপ্তাহে প্রায় তিন হাজার পর্যটকের সমাগম হয়েছে। তেলের তীব্র সংকটের কারণে অনেক পর্যটক সাজেকে আসতে পারছেন না। যে মৌসুমে পাঁচ হাজার পর্যটক আসার কথা, সেখানে আশানুরূপ সমাগম ঘটছে না।
তিনি আরও বলেন, তেল সংকটের অজুহাতে আগত পর্যটকদের কাছ থেকে যাতে হোটেল ভাড়া ও খাবারের বিল অতিরিক্ত নেওয়া না হয়, সেদিকে তারা নজর রাখছেন। পর্যটকদের সেবায় তারা প্রস্তুত আছেন।
রাঙামাটির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের আনন্দ–উল্লাসে সময় কাটাতে দেখা গেছে। ছবি তোলা ও সেলফির মাধ্যমে তারা আনন্দ উপভোগ করছেন।
আশির দশকে দুই পাহাড়ের সংযোগ ঘটিয়ে কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুটি বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পর্যটকদের প্রবেশের জন্য ৩০ টাকা মূল্যের টিকিট বিক্রি করা হয়।
পর্যটন করপোরেশন রাঙামাটি শাখার ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, রাঙামাটি শহরের হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের সমাগম বেশ ভালো। প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন হাজার পর্যটক আসছেন।
রাঙামাটি ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে রাঙামাটি ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য নৌপথ ও সড়কপথে ট্যুরিস্ট পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, নৌপথে ভ্রমণের জন্য প্রতিটি ট্যুরিস্ট বোটে লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ