ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন একটি চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটি হলো পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান, যা ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হামলাকে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক শতবর্ষী স্তম্ভের ওপর আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এদিকে, একই হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরানজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছেন শহরের মেয়রের মুখপাত্র আব্দুলমোহর মোহাম্মদখানি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ৩৩ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির মধ্যে অনেকগুলোর ক্ষেত্রে সামান্য মেরামতই যথেষ্ট হলেও, কিছু ভবনের জন্য প্রয়োজন পড়বে বড় ধরনের সংস্কার কিংবা সম্পূর্ণ পুনর্নির্মাণ।
হামলার প্রভাব সরাসরি পড়েছে নগরবাসীর জীবনে
ইতোমধ্যে বিভিন্ন সমস্যার কারণে ১ হাজার ৮৬৯টি পরিবার নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ১ হাজার ২৪৫টি পরিবারকে ২৩টি আবাসিক কমপ্লেক্সে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদখানি জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে অথবা আর্থিক সহায়তায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি বাড়িতে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।
এ ঘটনার পর উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইরানের সামরিক বাহিনী কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে দেশটির এক সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘গুরুত্বহীন লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালাচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এর জবাবে খুব শিগগিরই ‘চরম, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক’ প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে।
বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে ইরানের প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশটির সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, চলমান আগ্রাসনের জন্য তাদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।
দেশবার্তা/আরএইচ