পাবনার চাটমোহরে অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার জন্য পেট্রল ও ডিজেল গোপনে নিয়ে আসার সময় জব্দ করেছে পুলিশ।
রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর বটতলা মোড় থেকে ১২টি ব্যারেলে থাকা ২ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল জব্দ করে থানা পুলিশ।
এ সময় কীটনাশক ও তেল ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন এবং নসিমন চালক শামসুল আলমকে আটক করা।
জানা গেছে, সারাদেশ জুড়েই চলছে তেলের সংকট। তেল না পেয়ে বিভিন্ন যানবাহন চালকরা বিপাকে পড়েছেন। এই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী তেল মজুদ করে গোপনে সরকারি মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন। চাটমোহর উপজেলাজুড়েও চলছে তেলের জন্য হাহাকার। উপজেলার একটি মাত্র পাম্প থেকে চাহিদা মোতাবেক তেল দিতে পারছে না।
প্রতিদিন-ই শত শত বাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন চালকরা ভিড় জমাচ্ছেন তেল পাম্পে। তেল না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। অথচ উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন খোলা বাজারে প্রতি লিটার অকটেন ৩০০, পেট্রল ২৫০ এবং ডিজেল ২০০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সেটি অনেক গোপনে। তেল সংকটের কারণে কৃষি আবাদ নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সংকটময় সময়ে অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে চাটমোহর পৌর শহরের জারদিস মোড় এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে লিটন হোসেন ও নিমাইচড়া ইউনিয়নের চিনাভাতকুর এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে মুকুল হোসেন বাঘাবাড়ী এলাকা থেকে তেল ক্রয় করে দুটি নসিমন যোগে রোববার সন্ধ্যায় নিয়ে আসছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেনসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য রামচন্দ্রপুর এলাকায় অবস্থান নেন এবং ১২টি ব্যারেলে থাকা ২ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল আটক করে পুলিশ। তারা এসময় তেল ক্রয়ের কোনো রশিদ দেখাতে না পারায় তেলের ব্যারেলগুলো জব্দ করা হয়।
পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জব্দকৃত তেল মথুরাপুর এলাকায় নিয়ে খোলা বাজারে সরকারি মূল্যে বিক্রি করে দেন। সেইসাথে আটক দুইজনের মধ্যে মুকুল হোসেনকে ৫ হাজার এবং লিটন হোসেনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট।
এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একশ্রেণির অসাধু মানুষ কৃত্রিম সংকট তৈরি করার জন্য তেল মজুদ করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্যারেলে তেল নিয়ে আসার সময় তাদের আটক করা হয়। এমন অভিযান চলতে থাকবে বলে জানান ওসি।
প্রতিনিধি/আরএইচ