দেশে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। এই রোগের উপসর্গ নিয়ে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ৪৬৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজশাহীতে ২৮০ জন, খুলনায় ১০০ জন, বরিশালে ৩৭ জন, চট্টগ্রামে ২৬ জন এবং সিলেটে ২৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
রাজশাহীতে শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ২৮০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের মধ্যে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিন জানান, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ৬ মাসের নিচে। সাধারণত ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়, কিন্তু তার আগেই এত বিপুলসংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
খুলনায় কুষ্টিয়া জেলায় সংক্রমণ বেশি
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১০০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৯ জন রোগীই কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালে ভর্তি। এছাড়া যশোরে ১৬ জন এবং অন্যান্য জেলায় আরও কয়েকজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, সরকারি হাসপাতালগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং হামের চিকিৎসায় বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বরিশালে একজনের মৃত্যু
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) বর্তমানে ৩৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১৬ শিশু। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে ১১১ জন রোগী হাম নিয়ে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিকাশ চন্দ্র নাগ জানান, তিনটি আইসোলেশন কক্ষে সার্বক্ষণিক চিকিৎসার পাশাপাশি হাইফ্লো অক্সিজেনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। হাম থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সিলেট ও চট্টগ্রামের চিত্র
সিলেটের শহীদ সামসুদ্দিন হাসপাতালে বর্তমানে ২৪ জন রোগী ভর্তি আছেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান জানান, আক্রান্তদের মধ্যে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক (২০-২২ বছর) রয়েছেন, বাকিরা শিশু।
অন্যদিকে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৬ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৫৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য আরও ১৬টি নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে যারা এখনও টিকার আওতায় আসেনি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি।
দেশবার্তা/একে