রোজা ও ঈদের দীর্ঘ ছুটির রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আবারও অনলাইন ক্লাসের আবহ ফিরছে। তবে এবার কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি বা মহামারি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নীতিগত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবটি উত্থাপনের কথা রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রোজার ছুটি, বিভিন্ন আন্দোলনসহ নানা কারণে কিছু ক্লাস কম হয়েছে। এ কারণে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস চালু রাখতে চায় সরকার। আগামী বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে স্কুল পর্যায়ে এ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও কলেজ পর্যায়েও তা প্রযোজ্য হতে পারে কিনা, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আপাতত ভিন্ন ব্যবস্থাপনা থাকতে পারে। জরিপ করে দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশ মানুষ অনলাইনে যেতে চায়। তবে পুরোপুরি অনলাইন আনসোশ্যাল হয়ে যাবে। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকার স্কুলের ক্ষেত্রে আপাতত এ বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।’
প্রস্তাবিত নতুন পরিকল্পনা: ‘অল্টারনেটিভ ডে’ মডেল
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় বাদে মহানগরের স্কুল ও কলেজগুলোতে সপ্তাহে ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন সশরীরে এবং তিন দিন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। এই পরিকল্পনার মূল বৈশিষ্ট্য হলো ‘অল্টারনেটিভ ডে’ পদ্ধতি— অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা একদিন প্রতিষ্ঠানে এসে ক্লাস করবে এবং এর পরের দিন ঘরে বসে অনলাইনে পাঠ গ্রহণে অংশ নেবে।
এই প্রস্তাবের উল্লেখেযোগ্য দিক:
• সশরীরে উপস্থিতি: শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাসের সুযোগ থাকলেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রতিদিন সশরীরে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে।
• ব্যবহারিক ক্লাস: বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ল্যাব বা ব্যবহারিক ক্লাসগুলো কোনোভাবেই অনলাইনে হবে না; এগুলো সশরীরেই অনুষ্ঠিত হবে।
• ভৌগোলিক গুরুত্ব: প্রাথমিকভাবে বড় শহর বা মেট্রোপলিটন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই পরিকল্পনার আওতায় আনার কথা ভাবা হচ্ছে।
• জনমত: সরকারের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৫৫ শতাংশ মানুষ অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
কেন এই উদ্যোগ?
সম্প্রতি এক আলোচনায় জানানো হয়েছে, রোজা এবং বিভিন্ন আন্দোলনের কারণে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু ক্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে সাশ্রয়ী ভূমিকা রাখতে সরকার সপ্তাহে ৬ দিনই ক্লাস চালু রাখতে চায়। তবে পরিবহন ও বিদ্যুৎ খরচ কমাতে এই মিক্সড (অনলাইন-অফলাইন) পদ্ধতিটিকেই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে দ্রুতই সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করা হবে।
দেশবার্তা/এসবি