আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ নিয়ে উন্মাদনা থাকলেও, টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম দেখে এখন আতঙ্কে আছেন সাধারণ সমর্থকরা। ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম যেভাবে বাড়ানো হয়েছে, তাতে একে এখন শুধুই ধনীদের ইভেন্ট বলে মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
ফাইনালের ‘ক্যাটাগরি ১’ টিকিটের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯৯০ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকারও বেশি।
শুধু প্রথম শ্রেণি নয়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ক্যাটাগরির টিকিটের দামও যথাক্রমে ৬ লাখ ৮৭ হাজার এবং ৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ফিফার বিতর্কিত ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ নীতির কারণে চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে টিকিটের দাম এভাবে ওঠানামা করছে, যা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে তাদের জোরালো অভিযোগ দায়ের করেছে।
মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। লটারি এবং ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ পদ্ধতিতে টিকিট ছাড়ার পর লাখ লাখ সমর্থক অনলাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অনেক ইউজার ভুল কিউ-তে চলে গেছেন অথবা পেমেন্ট পেজে ঢুকতেই পারেননি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাস্ট-মিনিট সেলস ফেজের লিঙ্কে ক্লিক করেও অনেক সমর্থক সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই বিশৃঙ্খলা দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন যে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়াটা চরম অপেশাদারিত্বের লক্ষণ।
আগামী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আয়োজক দেশ মেক্সিকো লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। সেই ম্যাচের টিকিটের দামও রাখা হয়েছে আকাশচুম্বী। বড় দলগুলোর পাশাপাশি আয়োজক দেশগুলোর ম্যাচের টিকিটের দাম যেভাবে বাড়ানো হয়েছে, তাতে ফুটবল বিশ্বের আসল প্রাণ অর্থাৎ সাধারণ দর্শকদের গ্যালারিতে বসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গ্রুপ পর্বের মাত্র ১৭টি ম্যাচের টিকিট ছাড়ার পর যদি এই পরিস্থিতি হয়, তবে নকআউট পর্বের টিকিট ছাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শঙ্কিত ফুটবল দুনিয়া।
দেশবার্তা/একে